গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষস্থান দখল করে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। বুধবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ করেছে সুইসরা। এই জয়ে তারা সরাসরি শেষ ৩২-এর পর্বে উঠেছে এবং আগামী ২ জুলাই ভ্যাঙ্কুভারে টুর্নামেন্টের সেরা তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর একটির বিপক্ষে খেলবে।
ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, বর্তমান অবস্থান তাদের প্রাপ্য। পরবর্তী প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হওয়ার আগে দলটি কিছুটা বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ পাবে বলেও জানান তিনি।
দ্বিতীয় হয়ে ইতিহাস গড়ল কানাডা
ম্যাচ হারলেও কানাডার জন্য এটি ছিল স্মরণীয় এক দিন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠেছে। তবে জয় বা ড্র করতে না পারায় নিজেদের মাঠে শেষ ৩২-এর ম্যাচ খেলার সুযোগ হারিয়েছে দলটি।
এর ফলে আগামী রোববার কানাডাকে ইঙ্গলউডে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হতে হবে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ ‘এ’-তে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে।

কানাডার কোচ জেসি মার্শ বলেন, তারা ভ্যাঙ্কুভারেই থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু সামনে এখনও বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।
দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ
প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকার ৩৭ মিনিটের ফ্রি-কিক ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে কানাডার আলি আহমেদের প্রচেষ্টা সহজেই রুখে দেন গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল।
বিরতির পরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে রুবেন ভার্গাসের শট পোস্টে লেগে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড।
৫৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ২০ বছর বয়সী ইয়োহান মানজাম্বি। ব্রিল এমবোলোর পাস থেকে নেওয়া তার শট গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোর হাত ফসকে জালে ঢুকে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তরুণ এই মিডফিল্ডার।
শেষ দিকে লড়াই করেও সমতা ফেরাতে পারেনি স্বাগতিকরা
৭৬ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় প্রমিস ডেভিড মাঠে নেমেই প্রথম স্পর্শে গোল করে কানাডাকে ম্যাচে ফেরান। এরপর একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও সমতার গোল আদায় করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
কানাডা এই ম্যাচে নেমেছিল কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। সেটিই ছিল বিশ্বকাপে দেশটির প্রথম জয়। তবে সেই সাফল্যের মাঝেই বড় ধাক্কা হয়ে আসে মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের চোট। বাঁ পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি ক্রাচে ভর দিয়ে মাঠের বাইরে থেকে সতীর্থদের খেলা দেখেছেন।
সুইসদের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা
টুর্নামেন্টে সুইজারল্যান্ড প্রথম ম্যাচে কাতারের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে। পরে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দেয়। গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত সুইসরা টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া আগের তিনটি আসরেই তারা শেষ ষোলোতে পৌঁছেছিল।
ইয়াকিন বলেন, টুর্নামেন্টের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে এখন দলের খেলার ধরন নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
অন্য ম্যাচে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। তবু তৃতীয় স্থানধারী সেরা দলগুলোর তালিকায় থেকে তাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে। কাতারের বিশ্বকাপ অভিযান অবশ্য এখানেই শেষ হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















