বাংলাদেশ ২৪টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে পারে, দাবি বিদেশি গণমাধ্যমের; চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের স্বীকৃতি বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞের
২০২২ সালের ১১ মার্চ পাকিস্তান বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের আগে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ও পাইলট প্রশিক্ষণে অংশ নেয় একটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান। ছবি: এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়না (এভিআইসি)
বাংলাদেশ ২৪টি পর্যন্ত চীনা জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে বলে সোমবার থেকে বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি চীন। এ প্রসঙ্গে এক সামরিক বিশ্লেষক গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। খবরগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলেও বিদেশি গণমাধ্যমের আগ্রহ প্রমাণ করে যে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং সামরিক শিল্পের মান আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি পাচ্ছে।
ঢাকাভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি ওয়াদ্দার একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া মঙ্গলবার এবং এএনআই সোমবার জানায়, ২৪ থেকে ২৬ জুন চীন সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪টি চীনা জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঢাকা ও বেইজিং সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ডেইলি ওয়াদ্দার প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “আমরা আশা করছি চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারব।”
বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রতিরক্ষা আলোচনা বৃহত্তর একটি কর্মসূচির অংশ, যা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার দাবি, চুক্তিটি সম্পন্ন হলে চীনের এই প্রধান চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের জন্য এটি হবে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক রপ্তানি চুক্তি। বর্তমানে চীনের বাইরে পাকিস্তান বিমানবাহিনীই একমাত্র বাহিনী হিসেবে জে-১০সিই ব্যবহার করছে।
তবে এ পর্যন্ত চীন সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
এটি প্রথমবার নয় যে বিদেশি গণমাধ্যম এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে জানায়, সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে তারা জানতে পেরেছে যে বাংলাদেশ সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২০টি চীনা জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর লক্ষ্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য চুক্তির মধ্যে যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে সরাসরি ক্রয় অথবা সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। অর্থ পরিশোধের সময়সীমা ২০৩৫-৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত ১০টি অর্থবছরে ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
)
বেইজিংভিত্তিক অ্যারোস্পেস নলেজ সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক ওয়াং ইয়ানান গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। অতীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চীনের তৈরি জে-৭ যুদ্ধবিমান ও কিউ-৫ আক্রমণ বিমান সংগ্রহ করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে জেএফ-১৭ বা জে-১০-এর মতো আধুনিক প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করা হয়নি।
ওয়াংয়ের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অনেক সরঞ্জাম তুলনামূলকভাবে পুরোনো হয়ে গেছে এবং প্রধান যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট।
তিনি বলেন, চীনা সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশের মধ্যে এসব প্ল্যাটফর্মের প্রতি একটি আস্থার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রয়চুক্তি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
একদিকে, এ ধরনের প্রতিবেদনের উৎস আরও বিভিন্ন মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাজেটের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ব্যয় হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে ওয়াং মনে করেন, এ বিষয়টি নিয়ে বিদেশি গণমাধ্যমের আগ্রহ দেখায় যে চীনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের মান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমশ বেশি স্বীকৃতি পাচ্ছে।
তার ভাষায়, ২০২৫ সালের পর থেকে অনেক দেশ চীনা সামরিক সরঞ্জামকে কেবল কাগজে-কলমে দেওয়া প্রযুক্তিগত তথ্য বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন না করে বাস্তব কার্যকারিতার দিকেও গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে। বিশ্বজুড়ে চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদনমান ব্যাপক স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা সামরিক সরঞ্জামের গ্রহণযোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















