০৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ইরানের দাবি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান চুক্তি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ নিউইয়র্কের রাজনীতি, ইসরায়েল বিতর্ক ও নতুন নাগরিক অধিকার সংকট সিঙ্গাপুরের নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দ্রুত অভিযোজনের আহ্বান মার্কিন জাতীয় উদ্যানে মৃত্যু-দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশে নতুন বিধিনিষেধ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কি বদলে যাবে ইরানের অর্থনীতি? ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আমিরাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জাতীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন চলচ্চিত্রকার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে নেতার কটাক্ষ: ‘রিকশা থেকে প্রাডো, জুলাই চেতনা বিক্রির রাজনীতি বন্ধ হোক’

নতুন গতি পাচ্ছে রেল সহযোগিতা, জুলাইয়ে ভারত থেকে আসছে ২০ যাত্রীবাহী কোচ

বাংলাদেশের জন্য ভারত থেকে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেল কোচ আগামী জুলাই মাসে আসতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে নতুন রেল কোচ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই মাসে রপ্তানির জন্য ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ প্রস্তুত রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পূর্ববর্তী একটি বড় চুক্তির অংশ।

২০০ কোচের চুক্তির অংশ

বাংলাদেশ এর আগে ভারত থেকে ৯১৫ কোটি রুপি ব্যয়ে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার চুক্তি করেছিল। বর্তমানে যে ২০টি কোচ পাঠানো হচ্ছে, সেগুলো ওই চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ।

এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোচ নির্মাণের কাজ পায়।

ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম চালানের কোচগুলো জুলাইয়ের মধ্যেই হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

কোথায় তৈরি হচ্ছে কোচ?

রেল কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা রেল কোচ কারখানায় নির্মাণ করা হচ্ছে। আধুনিক ব্রডগেজ যাত্রীবাহী এই কোচগুলো বাংলাদেশের রেল বহরে নতুন সক্ষমতা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পে ধীরগতি

ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া কয়েকটি প্রকল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় এই কোচ সরবরাহ প্রকল্পের কাজও কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়ে।

তবে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ আবার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে। জুলাইয়ে ২০টি কোচ সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় রেল কোচ রপ্তানির কার্যক্রম নতুন করে গতি পাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত রেল সহযোগিতার ধারাবাহিকতা

এর আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল। দুই দেশের মধ্যে পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন ও রেল যোগাযোগ জোরদারের সহযোগিতার অংশ হিসেবে এসব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ চুক্তির আওতায় শুধু কোচ সরবরাহই নয়, ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কোচগুলো পরিচালনার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেবে ভারত। ফলে নতুন কোচগুলো দ্রুত রেলসেবায় যুক্ত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাংলাদেশের রেল খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রকল্পকে দুই দেশের চলমান অবকাঠামোগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত থেকে জুলাইয়ে আসছে ২০ ব্রডগেজ রেল কোচ, ২০০ কোচের বৃহৎ চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের দাবি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান চুক্তি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’

নতুন গতি পাচ্ছে রেল সহযোগিতা, জুলাইয়ে ভারত থেকে আসছে ২০ যাত্রীবাহী কোচ

০৪:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের জন্য ভারত থেকে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেল কোচ আগামী জুলাই মাসে আসতে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে নতুন রেল কোচ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই মাসে রপ্তানির জন্য ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ প্রস্তুত রয়েছে। এগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পূর্ববর্তী একটি বড় চুক্তির অংশ।

২০০ কোচের চুক্তির অংশ

বাংলাদেশ এর আগে ভারত থেকে ৯১৫ কোটি রুপি ব্যয়ে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার চুক্তি করেছিল। বর্তমানে যে ২০টি কোচ পাঠানো হচ্ছে, সেগুলো ওই চুক্তির প্রথম ধাপের অংশ।

এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোচ নির্মাণের কাজ পায়।

ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথম চালানের কোচগুলো জুলাইয়ের মধ্যেই হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশে পাঠানোর সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

কোথায় তৈরি হচ্ছে কোচ?

রেল কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথালা রেল কোচ কারখানায় নির্মাণ করা হচ্ছে। আধুনিক ব্রডগেজ যাত্রীবাহী এই কোচগুলো বাংলাদেশের রেল বহরে নতুন সক্ষমতা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পে ধীরগতি

ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত থেকে রপ্তানি হওয়া কয়েকটি প্রকল্পে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় এই কোচ সরবরাহ প্রকল্পের কাজও কিছুটা ধীরগতির হয়ে পড়ে।

তবে বর্তমানে প্রকল্পের কাজ আবার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে। জুলাইয়ে ২০টি কোচ সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় রেল কোচ রপ্তানির কার্যক্রম নতুন করে গতি পাবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ-ভারত রেল সহযোগিতার ধারাবাহিকতা

এর আগে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল। দুই দেশের মধ্যে পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন ও রেল যোগাযোগ জোরদারের সহযোগিতার অংশ হিসেবে এসব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ চুক্তির আওতায় শুধু কোচ সরবরাহই নয়, ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কোচগুলো পরিচালনার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেবে ভারত। ফলে নতুন কোচগুলো দ্রুত রেলসেবায় যুক্ত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

বাংলাদেশের রেল খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রকল্পকে দুই দেশের চলমান অবকাঠামোগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত থেকে জুলাইয়ে আসছে ২০ ব্রডগেজ রেল কোচ, ২০০ কোচের বৃহৎ চুক্তির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে নতুন অগ্রগতি।