জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, অনেকেই এখন ‘জুলাই চেতনা’কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছেন। তার ভাষায়, যারা একসময় রিকশায় চলাফেরা করতেন, তারা এখন প্রাডো গাড়িতে চড়ে জুলাই চেতনা বিক্রি করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
জুলাই চেতনা নিয়ে মন্তব্য
আলোচনায় আক্তারুজ্জামান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ও সংগ্রামে তিনি নিজেও অংশ নিয়েছেন এবং সংসদে উপস্থিত অনেকেই এতে যুক্ত ছিলেন। তবে তার মতে, জুলাইকে ধারণ করার পরিবর্তে কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন, জুলাই কোনো বিক্রির বিষয় নয়, বরং এটি ধারণ করার বিষয়। যারা জুলাই চেতনা নিয়ে কথা বলেন, তাদের অতীত ও বর্তমান জীবনযাত্রার পরিবর্তন জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেকে আগে কীভাবে চলাফেরা করতেন আর এখন কীভাবে চলাফেরা করছেন, তা জনগণ জানলে বাস্তবতা আরও পরিষ্কার হবে। তিনি মন্তব্য করেন, যারা নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করেন, তারা নিজেদের জীবনযাত্রার এই পরিবর্তনও প্রকাশ করতে পারেন।
বাজেটে বিনিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্ব
প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তার মতে, সরকার দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাজেটে বিভিন্ন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশেষ করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রাখা হয়েছে, যা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
নেতৃত্ব ও ইতিহাসের প্রসঙ্গ
বক্তব্যের এক পর্যায়ে আক্তারুজ্জামান বলেন, দেশের জন্য সঠিক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, যেমন মুক্তিযুদ্ধ দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনি জুলাইয়ের ঘটনাবলিও স্মরণীয়। তবে একটিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্যটিকে খাটো করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার চেতনাকে জুলাইয়ের মাধ্যমে মুছে ফেলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। স্বাধীনতা ও জুলাই—দুটিই জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং উভয়কেই সম্মানের সঙ্গে ধারণ করা উচিত।
সংসদে তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে ‘জুলাই চেতনা’কে ঘিরে তার করা মন্তব্য ইতোমধ্যে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সংসদে আক্তারুজ্জামানের মন্তব্য, জুলাই চেতনা বিক্রির অভিযোগ এবং বাজেটে বিনিয়োগ ও সামাজিক সুরক্ষার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















