ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও পরীক্ষায় অনিয়মের প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে দেওয়া তাঁর একটি মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। দলটির সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নিজের অবস্থান আরও দুর্বল করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে।
সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্র প্রধান বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন নিয়ে মন্তব্য করেন। ওই বক্তব্যকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। কংগ্রেসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে তাদের মর্যাদাহানি করা হয়েছে।
পরীক্ষা কেলেঙ্কারি নিয়ে ক্ষোভ
মল্লিকার্জুন খাড়গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং তার ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনেক পরিবার চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে।
খাড়গের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও তিনি সমস্যার দায় স্বীকার না করে বিতর্কিত মন্তব্যে জড়িয়েছেন।
সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন
কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেন, সরকারের নীতির সমালোচনা করলেই বিরোধী মতকে নানা তকমা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, শিক্ষার্থী, কৃষক কিংবা সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে গুরুত্ব দিয়ে সমস্যার সমাধান করার বদলে তাদের বক্তব্যকে খাটো করে দেখার প্রবণতা বাড়ছে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন। তাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেমে থাকবে না, বরং আরও শক্তিশালী হবে।
দেশজুড়ে প্রচার কর্মসূচি
বিতর্কের মধ্যেই কংগ্রেস ‘ছাত্রদের কণ্ঠস্বর’ শিরোনামে দেশব্যাপী একটি প্রচার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় ভারতের ২৮টি শহরে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কার এখন সময়ের দাবি। তাদের মতে, শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা হয়নি। শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর নীতি প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
দলটির বক্তব্য, বর্তমান সংকট শুধু বেকারত্বের নয়, বরং কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ কারণে শিক্ষা খাতকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে উত্তপ্ত ভারতের রাজনীতি। পদত্যাগ দাবি করেছে কংগ্রেস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















