০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র দুর্যোগের দিনে টিকে থাকার পাঠ: কেন বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতির গুরুত্ব বিশ্বকাপের বল নিয়ে গোলরক্ষকদের দুশ্চিন্তা, প্রশ্নের উত্তর দিলেন জো হার্ট ২০৩৮ বিশ্বকাপ আয়োজনেও আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা সিয়াটলে ইরান-মিসর ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক, রংধনু পতাকা নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্তে উত্তেজনা মোজার্টের অজানা সুরের খাতা আবিষ্কার, মিলল সাতটি নতুন সংগীতকর্ম ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না টেনেসি উইলিয়ামসের নাটক থেকে অপেরা: পাখি, অন্ধকার রহস্য আর গথিক আবহে নতুন রূপ ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া ‘প্রায় অসম্ভব’ বলছেন বিজ্ঞানীরা হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি

হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জ্বালানি কোম্পানি এখন তেল পরিবহনের নতুন পথ, বড় মজুত সুবিধা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব আগের তুলনায় কম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তেল পরিবহনে পাইপলাইনের গুরুত্ব বাড়ছে

যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার এড়িয়ে চলতে শুরু করে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে পাইপলাইন।

সৌদি আরবের একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল যেত, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পাইপলাইন সামাল দিতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের পাইপলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান পাইপলাইনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা গেলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

বড় মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ

সংঘাতের সময় অনেক দেশ তাদের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখে। বিশেষ করে চীনের বিপুল তেল মজুত বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ অভিজ্ঞতার পর বিভিন্ন দেশ এখন আরও বড় সংরক্ষণাগার নির্মাণের কথা ভাবছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদক রাষ্ট্রগুলোও মনে করছে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেলের মজুত বাড়ানো প্রয়োজন।

সব ঝুঁকি এখনও দূর হয়নি

যদিও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তবুও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব পুরোপুরি কমে যাবে না।

যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত কমে যায় এবং বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। যদি সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতো, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারত।

এছাড়া পাইপলাইন সম্প্রসারণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতে এসব অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাকৃতিক গ্যাসে নির্ভরতা রয়ে গেছে

হরমুজ প্রণালি শুধু তেলের জন্য নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উৎপাদিত হলেও তা বিশ্ববাজারে পাঠানোর মতো বড় বিকল্প পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নেই।

ফলে আগামী অনেক বছর ধরে গ্যাসবাহী জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহার করতেই হবে। এ কারণে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক হতে পারে স্থায়ী সমাধান

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, শুধু সামরিক নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতাও ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলে ইরানেরও সহযোগিতামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রণোদনা বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব ধীরে ধীরে বিকল্প পথ তৈরি করলেও হরমুজ প্রণালি আগামী বহু বছর বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই থাকবে।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, পাইপলাইন ও তেল মজুত বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তুরস্ককে ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রিতে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, তেল সরবরাহে নতুন কৌশলে কমছে ঝুঁকি

০৮:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জ্বালানি কোম্পানি এখন তেল পরিবহনের নতুন পথ, বড় মজুত সুবিধা এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব আগের তুলনায় কম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তেল পরিবহনে পাইপলাইনের গুরুত্ব বাড়ছে

যুদ্ধ চলাকালে ইরানের হামলার কারণে অনেক বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার এড়িয়ে চলতে শুরু করে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে পাইপলাইন।

সৌদি আরবের একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে পরিমাণ তেল যেত, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই পাইপলাইন সামাল দিতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতও তাদের পাইপলাইন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান পাইপলাইনগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা গেলে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

বড় মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ

সংঘাতের সময় অনেক দেশ তাদের কৌশলগত তেল মজুত ব্যবহার করে বাজারে সরবরাহ বজায় রাখে। বিশেষ করে চীনের বিপুল তেল মজুত বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এ অভিজ্ঞতার পর বিভিন্ন দেশ এখন আরও বড় সংরক্ষণাগার নির্মাণের কথা ভাবছে। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি উৎপাদক রাষ্ট্রগুলোও মনে করছে, ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেলের মজুত বাড়ানো প্রয়োজন।

সব ঝুঁকি এখনও দূর হয়নি

যদিও বিকল্প ব্যবস্থাগুলো কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে, তবুও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব পুরোপুরি কমে যাবে না।

যুদ্ধ চলাকালে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত কমে যায় এবং বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়। যদি সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতো, তাহলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারত।

এছাড়া পাইপলাইন সম্প্রসারণে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। ভবিষ্যতের কোনো সংঘাতে এসব অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাকৃতিক গ্যাসে নির্ভরতা রয়ে গেছে

হরমুজ প্রণালি শুধু তেলের জন্য নয়, প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উৎপাদিত হলেও তা বিশ্ববাজারে পাঠানোর মতো বড় বিকল্প পাইপলাইন নেটওয়ার্ক নেই।

ফলে আগামী অনেক বছর ধরে গ্যাসবাহী জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহার করতেই হবে। এ কারণে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক হতে পারে স্থায়ী সমাধান

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, শুধু সামরিক নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতাও ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হলে ইরানেরও সহযোগিতামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রণোদনা বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব ধীরে ধীরে বিকল্প পথ তৈরি করলেও হরমুজ প্রণালি আগামী বহু বছর বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই থাকবে।

হরমুজ প্রণালির বিকল্প খুঁজছে বিশ্ব, পাইপলাইন ও তেল মজুত বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ জোরদার হচ্ছে।