আজ পবিত্র আশুরা। মহরম মাসের ১০ তারিখ। ফোরাতের পানি আজও পৃথিবীতে যেমন প্রবাহমান কারবালার প্রান্তরের আত্মত্যাগ তেমনি আজও পৃথিবীতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে একটি নৈতিক আত্মত্যাগ, একটি ষড়যন্ত্রমূলক যুদ্ধের বা কৌশলের কাছে নৈতিকতা ও আদর্শের জন্য আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ উদাহরণ (যা প্রতিটি মানুষের মূল ধর্ম)।
এবারের পবিত্র আশুরা এমন একটি সময়ে এসেছে যখন হযরত ইমাম হাসান ও হোসেনের অনুসারী বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের আত্মমর্যাদা ও জাতিকে রক্ষা করার জন্যে জীবনপণ লড়াই করছে। এবং তারা শত্রুপক্ষকে বীরত্ব ও রাজনৈতিক ঐক্য দিয়ে অনেকটা পরাজিত করতে ইতোমধ্যে সমর্থ হয়েছে।
তাদের এই ঐক্য ও আত্মদানের মূলে যে শক্তি কাজ করছে তা হলো যিনি স্রষ্টার প্রেরিত দূত হিসেবে পৃথিবীতে ‘ইসলাম’ এনেছিলেন সেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) এর রক্তধারার প্রতি তাদের আস্থা।
বাস্তবে এই মূলের প্রতি আস্থাই মানুষকে শক্তিশালী করে। তাই সেটা ধর্ম হোক, রাষ্ট্র বিপ্লব হোক আর ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের পরিবর্তন হোক। মানুষ যখন তার মূলধারাকে অস্বীকার করে তখন সে আর যাই হোক নৈতিকতার ধারক হন না। আর অনৈতিকরা ষড়যন্ত্রে মাঝে মাঝে জয়লাভ করে ঠিকই কিন্তু নৈতিকতার বিজয় চিরকালের।

মানুষ প্রকৃত আত্মত্যাগ বা আত্ম-উৎসর্গ করে নৈতিকতার জন্য- কোনো ষড়যন্ত্রের জন্য নয়।
পবিত্র আশুরা যতই শোকাবহ একটি দিন হোক না কেন, বাস্তবে এটি সমগ্র মানব জাতির জন্য, সমগ্র মানব সম্প্রদায়ের সংগ্রামের জন্য একটি দিকনির্দেশনার দিন। তাই এদিনে কেবল কবি নজরুলের উচ্চারণকেই বুকে ধারণ করা যেতে পারে-
ফিরে এলো আজ সেই মহরম মাহিনা
ত্যাগ চাই মর্সিয়া ক্রন্দন চাই না।
তাই প্রতি মহরমের মতো এবারের মহরমও শিক্ষা দিয়ে যায়- ক্রন্দন নয়, সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হওয়াই – মূলত মহরমের আহ্বান।
সম্পাদকের টেবিল 


















