তুরস্কের কাছে প্রায় ৭০ কোটি ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকজন আইনপ্রণেতার আপত্তি থাকলেও ওয়াশিংটনের অবস্থানে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন গতি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তুরস্কের জন্য জেট ইঞ্জিন সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উন্নত সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন সরবরাহ করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের পর বিষয়টি নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু অংশে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে তুরস্কের হাতে রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন আইনপ্রণেতা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ন্যাটো মিত্র হলেও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে তুরস্ককে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
পুরোনো বিরোধের ছায়া
২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করে। সেই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র তখন বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে তুরস্কের অংশগ্রহণ সীমিত করেছিল।
তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ন্যাটো জোটের স্বার্থে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি উভয় পক্ষই গুরুত্ব দিচ্ছে।
কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দেশটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুক্তরাষ্ট্র একদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় রাখলেও অন্যদিকে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই জেট ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগ সেই বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্কেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামনে রেখে পরবর্তী সময়ে আরও বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















