২০২৬ বিশ্বকাপের বড় অংশ সফলভাবে আয়োজনের পর ২০৩৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়েও থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমান বিশ্বকাপে ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। টুর্নামেন্ট চলাকালে ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধি, অভিবাসন নীতি এবং কিছু দেশের প্রতিনিধিদের ভিসা জটিলতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক সক্ষমতা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা
অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি বলেন, বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রস্তুত দেশ খুব কমই আছে। তার মতে, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশ্বমানের স্টেডিয়াম থাকার কারণে দেশটি বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর আয়োজনের জন্য আদর্শ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পেলে তা গ্রহণ করতে আগ্রহী।

অবকাঠামোকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন
জিউলিয়ানি বলেন, অনেক দেশকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য নতুন স্টেডিয়াম ও অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় সুবিধা আগেই তৈরি রয়েছে। ফলে তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়ে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব।
তার দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রের আতিথেয়তা এবং আয়োজন দেখে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সে প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিতর্কের মধ্যেও আত্মবিশ্বাস
বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। এছাড়া কিছু দেশের কর্মকর্তাদের ভিসা জটিলতা এবং বাড়তি ভ্রমণ ব্যয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে এসব বিতর্কের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজকরা মনে করছেন, টুর্নামেন্ট পরিচালনায় দেশটির সক্ষমতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জিউলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তির সময় বিশ্বের মানুষের আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে আরও বড় ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্বকাপ আয়োজনের দৌড়ে ২০৩৮ সালেও থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, অবকাঠামো ও অভিজ্ঞতাকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন আয়োজকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















