লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের দেনায়েতপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের আরেক সদস্য গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম (৩৮), তার মেজ মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। গুরুতর আহত হয়েছেন শাহীনুরের বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছায়মা (২১)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সকালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়ে গুরুতর জখম হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক শাহীনুর, ইকরা ও শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ছায়মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক পটভূমি

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে। কয়েক বছর আগে শাহীনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি রায়পুরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয়দের হাতে আটক সন্দেহভাজন
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন জহির হোসেন নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। তিনি পেশায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ জানিয়েছেন, ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সন্দেহভাজন একজনকে জনতা আটক করে মারধর করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ কী এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
লক্ষ্মীপুরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















