বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে, যা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতীকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং। বৈঠক শেষে উভয় দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থনৈতিক ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদি আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠক ঘিরে গুরুত্ব পেয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন আগে জানিয়েছিলেন, দুই নেতা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার ও বাণিজ্যিক সহযোগী। ফলে এ বৈঠককে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকতা
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তাঁর সফর উপলক্ষে গ্রেট হল অব দ্য পিপল এবং তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পশ্চিমাংশসংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশ ও চীনের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আয়োজিত রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেন। গ্রেট হল অব দ্য পিপলেই তাদের সম্মানে এ ভোজসভার আয়োজন করা হয়।
এই সফর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের বৈঠকে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো সহযোগিতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















