বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সৃজনশীলতা, বিপণন ও বিনোদনভিত্তিক উৎসব কানস লায়ন্স ২০২৬-এ নজর কাড়লেন বলিউড ও হলিউড তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। আন্তর্জাতিক এই আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি যেমন নিজের ফ্যাশন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন, তেমনি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও গল্প বলার শিল্প নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেছেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রিয়াঙ্কা অংশ নেন ডেবুসি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনায়। সেখানে তিনি গল্প বলা, মৌলিকতা এবং সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অটুট রাখার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। বিশ্বজুড়ে সৃজনশীলতা ও বিনোদন শিল্পের পেশাজীবীদের এই মিলনমেলায় তার বক্তব্য বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে।
স্টাইল ও সৌন্দর্যে অনন্য উপস্থিতি
কানস লায়ন্সে উপস্থিতির জন্য প্রিয়াঙ্কা বেছে নিয়েছিলেন ডিজাইনার সিলভিয়া চেরাসির তৈরি একটি কালার-ব্লক হাল্টার-নেক ম্যাক্সি ড্রেস। ইতালীয় কাপড়ে তৈরি এই পোশাকে ছিল পরিমিত অথচ আধুনিক নকশার ছাপ। কলাম-স্টাইল সিলুয়েটের পোশাকটির মূল্য ছিল প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ভারতীয় রুপি।
পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন লেদারের থং স্যান্ডেল। পুরো সাজ ছিল মার্জিত ও সংযত। তার ব্যবহৃত আনুষঙ্গিকের মধ্যে ছিল একটি গোলাপি রঙের নেকলেস এবং একটি রোলেক্স ডে-ডেট ঘড়ি। মেকআপেও তিনি রেখেছিলেন সরলতা, যেখানে নিরপেক্ষ বাদামি রঙের টোন ও ম্যাট ফিনিশ ছিল প্রধান বৈশিষ্ট্য।
ট্রেন্ড নয়, অনুভূতিই আসল
আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জানান, গল্প বা চলচ্চিত্র নির্বাচন করার ক্ষেত্রে তিনি চলতি প্রবণতার চেয়ে নিজের অনুভূতির ওপর বেশি নির্ভর করেন।
তার মতে, কোনো ট্রেন্ড একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। একটি সিনেমা তৈরি হতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। ফলে বর্তমানে জনপ্রিয় কোনো বিষয় মুক্তির সময়ও দর্শকদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয় থাকবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
এই কারণেই তিনি ট্রেন্ড অনুসরণ না করে গল্পটি মানুষের মধ্যে কী ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি করবে, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। তার বিশ্বাস, সবচেয়ে স্মরণীয় সিনেমা সেগুলোই, যেগুলো দর্শক সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পরও মনে রাখে, আলোচনা করে এবং বারবার ফিরে দেখতে চায়।
স্মরণীয় চলচ্চিত্রের বৈশিষ্ট্য
প্রিয়াঙ্কা বলেন, একটি ভালো গল্প মানুষের মনে আবেগ তৈরি করে এবং দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার জন্ম দেয়। কোনো চিত্রনাট্য পড়ার সময় তিনি প্রথমেই ভাবেন, সিনেমাটি তাকে ব্যক্তিগতভাবে কী অনুভূতি দিচ্ছে। সেই আবেগই শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
জনপ্রিয় সিরিজ ‘সিটাডেল’-এর এই তারকা মনে করেন, দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে এমন চলচ্চিত্রই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে সফল ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। তাই গল্প বলার ক্ষেত্রে বাজারের সাময়িক চাহিদার পরিবর্তে মানবিক অনুভূতি ও আবেগকে গুরুত্ব দেওয়াই একজন নির্মাতা ও শিল্পীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ।
কানস লায়ন্স ২০২৬-এ তার উপস্থিতি ও বক্তব্য আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীই নন, সৃজনশীল চিন্তা ও গল্প বলার দর্শন নিয়েও তিনি সমানভাবে সচেতন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কানস লায়ন্সে ফ্যাশন ও গল্প বলার দর্শন নিয়ে আলোচনা করে বলেন, ট্রেন্ড নয়, দর্শকের আবেগই একটি চলচ্চিত্রকে স্মরণীয় করে তোলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















