বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় আবারও স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শফিউল আলম (৩৬) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের ফলে তার পায়ের গোড়ালির একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সীমান্তের ৪১ নম্বর পিলারের কাছাকাছি ভালুকিয়া এলাকার একটি পাহাড়ি স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শফিউল আলম ঘুমধুম ইউনিয়নের আমতলী গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ কালুর ছেলে।
সীমান্তবর্তী কলাবাগানে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শফিউল আলম দুপুরের দিকে নিজের কলাবাগানে কাজ করতে সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় যান। কাজ করার সময় হঠাৎ একটি স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পায়ের গোড়ালির একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তারা আহত শফিউলকে উদ্ধার করে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
সীমান্ত এলাকায় বাড়ছে উদ্বেগ
ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় অতীতেও একাধিকবার মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। নতুন এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা ও কৃষিজমিতে যাতায়াতকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনের সতর্কতামূলক উদ্যোগ
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হাসান জানিয়েছেন, ঘুমধুম এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে একজন আহত হয়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী যেসব এলাকায় মাইন পুঁতে রাখা থাকতে পারে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সীমান্তসংলগ্ন সন্দেহজনক বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















