ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক ব্যয় মেটাতে প্রায় ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আবেদন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনে রাজনৈতিকভাবে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ডেমোক্র্যাটরা যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন এবং অনেক রিপাবলিকানও এখন ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
বুধবার কংগ্রেসে পাঠানো প্রশাসনের প্রস্তাবে মোট ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার পেন্টাগনের যুদ্ধ-সংক্রান্ত পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য চাওয়া হয়েছে।
যুদ্ধের পাশাপাশি অন্য খাতেও অর্থ বরাদ্দ
প্রস্তাবিত প্যাকেজে শুধু যুদ্ধ নয়, আরও কয়েকটি খাতে অর্থ বরাদ্দের বিষয়ও রয়েছে। মার্কিন কৃষকদের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলার, মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা মোকাবিলায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং নিউইয়র্কের পেনসিলভানিয়া স্টেশনের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে ১ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের বরাদ্দ কমিটির চেয়ারম্যান টম কোল এবং প্রতিরক্ষা উপকমিটির চেয়ারম্যান কেন ক্যালভার্ট জানিয়েছেন, তারা সহকর্মীদের সঙ্গে প্রস্তাবটির বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন। তাদের ভাষায়, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখা কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
ডেমোক্র্যাটদের কড়া আপত্তি
তবে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। সিনেটের বরাদ্দ কমিটিতে শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্যাটি মারে অভিযোগ করেন, প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই ইরান যুদ্ধের লক্ষ্য, যৌক্তিকতা ও প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তার মতে, এই অর্থের একটি বড় অংশ এমন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে ব্যয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেগুলো স্বাভাবিক বাজেট প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই বিবেচিত হওয়া উচিত ছিল।
পেন্টাগনের পরিকল্পনায় রয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ সংগ্রহ এবং ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন স্যাটেলাইট কর্মসূচি, যার মাধ্যমে মহাকাশ থেকে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রিপাবলিকানদের মধ্যেও অস্বস্তি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও মতভেদ স্পষ্ট হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট প্রতীকী হলেও এমন প্রস্তাব পাস করেছে, যাতে ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধ করা অথবা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
মঙ্গলবার সিনেটে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এতে দুই দলের মধ্যেই যুদ্ধ নিয়ে বাড়তে থাকা সংশয়ের প্রতিফলন দেখা যায়।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় একটি যুদ্ধে কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পক্ষে ভোট দিতে তারা অনাগ্রহী বলে জানা গেছে।
অতিরিক্ত অর্থ জোগাড়ের বিকল্প পথ খোঁজা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, নতুন অস্ত্র কেনা এবং সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখতে পেন্টাগনের জরুরি অর্থ প্রয়োজন।

গত মাসে এক জ্যেষ্ঠ পেন্টাগন কর্মকর্তা জানান, তখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এতে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটির মেরামত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ছাড়া অতিরিক্ত সামরিক অর্থায়ন অনুমোদনের উপায় হিসেবে প্রশাসন ও কিছু রিপাবলিকান সদস্য ‘রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন। তবে সে পথেও রিপাবলিকানদের পূর্ণ ঐক্য প্রয়োজন হবে, যা নিশ্চিত নয়।
এদিকে অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রস্তাবের সঙ্গে ইথানলভিত্তিক জ্বালানি ই-১৫ সারা বছর বিক্রির অনুমোদনের মতো কিছু নীতিগত বিষয়ও যুক্ত করেছে হোয়াইট হাউস। ফলে বাজেট বিতর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন অর্থায়ন পরিকল্পনা এখন কংগ্রেসে কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখোমুখি। যুদ্ধের ব্যয়, কৌশল এবং এর সমাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন যত বাড়ছে, ততই প্রস্তাবটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















