বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা আরও উজ্জ্বল করেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। বুধবার কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দলটি শেষ ষোলোর লড়াইয়ে টিকে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুমেন ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বসনিয়ার জয়ের নায়ক ছিলেন ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এরমিন মাহমিচ। ম্যাচের ৮০তম মিনিটে করা তার গোলই কাতারের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করে। গোল উদযাপনের সময় জার্সি খুলে সমর্থকদের দিকে ছুটে যাওয়ায় তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। তবে বসনিয়া কোচ সের্গেই বারবারেজ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি, কারণ গ্রুপ পর্ব শেষে হলুদ কার্ডের হিসাব নতুন করে শুরু হবে।
ম্যাচ শেষে বারবারেজ জানান, মাহমিচের জন্য মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। গোলের পর তিনি আবেগে কেঁদেও ফেলেছিলেন বলে কোচ শুনেছেন।
নকআউটে ওঠার দারুণ সুযোগ
এই জয়ে নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় অবস্থানে থাকা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা নকআউট পর্বে যাওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে চলে এসেছে। সম্প্রসারিত বিশ্বকাপ কাঠামো অনুযায়ী ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ ৩২-এ জায়গা পাবে।
তবে বসনিয়ার ভাগ্য এখনও পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেই। অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপরও তাদের অগ্রগতি নির্ভর করছে। তবুও দলটির খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।
বারবারেজ বলেন, সবাই নতুন ইতিহাস লিখতে চায়। তবে পরবর্তী পর্বে যাওয়া নিশ্চিত হওয়ার জন্য এখনও অপেক্ষা করতে হবে।
তরুণ আলাজবেগোভিচের রেকর্ড
ম্যাচের ২৯তম মিনিটে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন ১৮ বছর বয়সী কেরিম আলাজবেগোভিচ। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদাকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অষ্টম কনিষ্ঠ গোলদাতার তালিকায় জায়গা করে নেন। বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ তরুণ এই ফুটবলারের প্রশংসা করে বলেন, এত বড় মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই অসাধারণ।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ
৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বসনিয়া। সেয়াদ কোলাশিনাচের ক্রস থেকে এদিন জেকোর প্রচেষ্টার পর বল কাতারের ডিফেন্ডার সুলতান আল-ব্রাকের গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া।
তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে কাতার একটি গোল শোধ করে। ৪২তম মিনিটে হাসান আল হাইদোস গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাহমিচের গোল কাতারের প্রত্যাবর্তনের সব আশা শেষ করে দেয়। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে কাতারের বিদায়ও নিশ্চিত হয়ে যায়।
ইতিহাসের দোরগোড়ায় বসনিয়া
প্রায় ৩০ লাখ মানুষের দেশ বসনিয়া-হার্জেগোভিনার জন্য বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়াটাই ছিল বড় অর্জন। এর আগে তারা মাত্র একবার, ২০১৪ সালে, বিশ্বকাপে খেলেছিল এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
এবার ইউরোপিয়ান প্লে-অফে ওয়েলস ও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় দলটি।
যদি বসনিয়া শেষ ৩২-এ উঠতে পারে, তবে আগামী ১ জুলাই লেভিস স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলতে হতে পারে। তবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হননি কোচ বারবারেজ। তার ভাষায়, সামনে যে দলই আসুক, সেটির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে তার খেলোয়াড়রা।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে, সেটাকেই অতিরিক্ত পাওয়া হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যেকোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
#বসনিয়া_হার্জেগোভিনা #কাতার #ফিফা_বিশ্বকাপ #ফুটবল #নকআউট_পর্ব #বিশ্বকাপ২০২৬ #স্পোর্টস_নিউজ #সারাক্ষণ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















