পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে হত্যার কথিত একটি পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা বা নিরাপত্তা হুমকির তথ্য তাদের কাছে ছিল না এবং সুইজারল্যান্ড সফর নির্বিঘ্নভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
কোথা থেকে এলো অভিযোগ
সম্প্রতি এক আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক পেপে এস্কোবার দাবি করেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নাকি নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছিল যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সুইজারল্যান্ড সফররত পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই কথিত পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা।
তিনি আরও দাবি করেন, এ তথ্য পাওয়ার পর পাকিস্তান কূটনৈতিক মাধ্যমে ইসরায়েলকে কঠোর বার্তা পাঠিয়েছিল। তবে এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

পাকিস্তানের স্পষ্ট অবস্থান
অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্রুত এর বিরোধিতা করে। দেশটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ড সফরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
তাদের দাবি, পুরো সফর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো পর্যায়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন পড়েনি। এমনকি স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা সংস্থা বা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সফরজুড়ে ছিল না কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলের অবস্থানকালীন সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল ছিল। সফরের প্রতিটি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

তাদের মতে, হত্যাচেষ্টার অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি কল্পনাপ্রসূত একটি দাবি, যার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
নীরব ইসরায়েল, চলছে কূটনৈতিক আলোচনা
বিতর্কিত এই অভিযোগ নিয়ে ইসরায়েল বা মোসাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে বিভিন্ন দেশ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ ধরনের অপ্রমাণিত দাবি দ্রুত আলোড়ন সৃষ্টি করলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থানই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।




















