যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর দেশজুড়ে লাখো মানুষ খাদ্য সহায়তার সুবিধা হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য, যেখানে সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে সারা দেশে ৪৭ লাখেরও বেশি মানুষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির বাইরে চলে গেছেন। এটি মোট সুবিধাভোগীর প্রায় ১১ শতাংশ। অ্যারিজোনায় একাই ৪ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ এই সহায়তা হারিয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার শিশু রয়েছে।
কঠোর শর্তে কমছে সুবিধাভোগী
নতুন আইনের মাধ্যমে আগামী ১০ বছরে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে এবং কিছু অভিবাসীর জন্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর প্রশাসনিক ব্যয়ের চাপও বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলে অনেক রাজ্য দ্রুত নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
অ্যারিজোনা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে চলা ছাড়া তাদের বিকল্প নেই। অন্যথায় বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে এবং আরও বেশি মানুষ সহায়তা হারাতে পারেন।
আবেদনের জটিলতায় ভোগান্তি
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর আবেদন ও নবায়ন প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়েছে। আবেদনকারীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াও দীর্ঘ হচ্ছে।
ফলে অনেক মানুষ সময়মতো সুবিধা নবায়ন করতে পারছেন না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে অপেক্ষা করেও সাড়া পাচ্ছেন না, আবার কেউ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে অনেক যোগ্য মানুষও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খাদ্য ব্যাংকে বাড়ছে ভিড়
খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খাদ্য ব্যাংক ও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে। অ্যারিজোনাজুড়ে এসব প্রতিষ্ঠানে সহায়তা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এপ্রিল মাসে প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ খাদ্য ব্যাংকের সাহায্য নিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অনেক পরিবার এখন নিয়মিত খাদ্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
খাদ্য বিতরণকারী সংস্থাগুলো বলছে, সরকারি সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের ওপর চাপ দ্রুত বাড়ছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
দেশজুড়ে একই প্রবণতা
অ্যারিজোনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও সুবিধাভোগীর সংখ্যা দ্রুত কমছে। বিভিন্ন রাজ্যে দুই অঙ্কের হারে নিবন্ধিত সুবিধাভোগী কমে গেছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কর্মসংস্থান শর্ত, অতিরিক্ত নথিপত্রের বাধ্যবাধকতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা অব্যাহত থাকলে আরও বহু নিম্নআয়ের পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়বে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের পাশাপাশি অপেক্ষার সময় কমানো এবং আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। তবে ততদিন পর্যন্ত বহু পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাতে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















