০৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজন  নিষেধাজ্ঞা শিথিলে  ইরানের তেল রপ্তানিতে আসতে পারে ৮৫০ কোটি ডলারের আয় চীনের পাল্লায় পৌঁছাতে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রে জোর, সামরিক আধুনিকীকরণে নতুন পর্যায়ে ভারত ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগে বদলাচ্ছে রিপাবলিকানদের ইরান-দৃষ্টিভঙ্গি পুড়ে যাওয়া বঙ্গবাজারে ১০ তলা ভবন, দোকান বুঝে পাওয়ার আগেই ‘চাঁদা’ অভিযোগে ক্ষোভ দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ফের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনারকে মন্ত্রিসভার মর্যাদা, শুধুই আনুষ্ঠানিক প্রোটোকলের জন্য এবার হামে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছুঁইছুঁই শীর্ষ উদ্ভাবন খাতে চীনের উত্থান, ডালিয়ানে শেষ হলো সামার ডাভোস ২০২৬ গ্লোবাল টাইমস প্রতিবেদন: বাংলাদেশের জে-১০সিই কেনার খবর, এখনো কিছু জানায়নি চীন

এবার কি ব্রা ছাড়া গ্রীষ্ম? তাপপ্রবাহে বদলে যাচ্ছে নারীদের পোশাকের অভ্যাস

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ শুধু আবহাওয়াই বদলে দিচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে পোশাক পরার অভ্যাসও। বিশেষ করে অনেক নারী বলছেন, প্রচণ্ড গরমে ব্রা পরা এখন তাদের কাছে অস্বস্তিকর, ক্লান্তিকর এবং অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। ফলে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ব্রালেস’ বা ব্রা ছাড়া পোশাক পরার প্রবণতা।

গরমে অস্বস্তির কেন্দ্রবিন্দু

অনেক নারীর অভিজ্ঞতায়, প্রচলিত ব্রা—বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার বা প্যাডযুক্ত ব্রা—গরমের দিনে অতিরিক্ত চাপ, ঘাম এবং অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ তাপমাত্রায় কাপড়ের ভেতরে ঘাম জমা হওয়া, ত্বকে ঘর্ষণ এবং সারাদিনের অস্বস্তি এড়াতে অনেকে এখন ঢিলেঢালা টি-শার্ট, হালকা পোশাক কিংবা নরম ব্রালেট বেছে নিচ্ছেন।

কেউ কেউ আবার অন্তর্বাসের পরিবর্তে বিল্ট-ইন সাপোর্টযুক্ত টপ, সাঁতারের পোশাক বা হালকা গ্রীষ্মকালীন পোশাক ব্যবহার করছেন। অনেকের মতে, তাপপ্রবাহের দিনে আরামই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Working Out in the Heat Is So Much Easier With These Expert-Backed Tips

শুধু তরুণীরা নন

এই প্রবণতা শুধু তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সের নারীরা প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগত জীবনে আরও স্বস্তিদায়ক পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। শহরের রাস্তাঘাট, ক্যাফে কিংবা সামাজিক আড্ডায় এমন দৃশ্য এখন আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

অনেকের বক্তব্য, প্রচণ্ড গরমে শরীরের স্বাভাবিক আরামকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাই ব্রা না পরার সিদ্ধান্তকে তারা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের অংশ হিসেবে দেখছেন, কোনো ফ্যাশন বিবৃতি হিসেবে নয়।

ফ্যাশন জগতেও প্রভাব

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফ্যাশন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে উপস্থিতিতে বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাকে ব্রা ছাড়া পোশাক পরতে দেখা গেছে। এতে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, কেট মস, চার্লি এক্সসিএক্স, গুইনেথ প্যালট্রো এবং রিটা ওরার মতো পরিচিত মুখদের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

So… Is No One Wearing Bras Anymore? - AOL

তবে সবাই যে এই পরিবর্তনের সঙ্গে একমত, তা নয়। অনেক নারী মনে করেন, বয়স, শারীরিক গঠন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে ব্রা এখনও তাদের জন্য প্রয়োজনীয়। কেউ কেউ মনে করেন, আরামের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের শুরু?

তাপপ্রবাহের এই সময়ে একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এটি কি সাময়িক প্রবণতা, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা?

কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, মহামারির পর যেমন অনেক মানুষ নিয়মিত হাই হিল বা বড় হ্যান্ডব্যাগ ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন, তেমনি ব্রা নিয়েও নতুন করে ভাবছেন অনেক নারী। আরাম, খরচ এবং ব্যবহারিক সুবিধার প্রশ্নে ভবিষ্যতে আরও নমনীয় পোশাক-সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, সব নারীর অভিজ্ঞতা এক নয়। কারও জন্য ব্রা ছাড়া থাকা সহজ ও স্বস্তিদায়ক, আবার অন্যদের জন্য তা শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। ফলে ‘ব্রালেস সামার’ নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি থেকে যাচ্ছে ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় হিসেবেই।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরেকজন

এবার কি ব্রা ছাড়া গ্রীষ্ম? তাপপ্রবাহে বদলে যাচ্ছে নারীদের পোশাকের অভ্যাস

০২:১৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ শুধু আবহাওয়াই বদলে দিচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে পোশাক পরার অভ্যাসও। বিশেষ করে অনেক নারী বলছেন, প্রচণ্ড গরমে ব্রা পরা এখন তাদের কাছে অস্বস্তিকর, ক্লান্তিকর এবং অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে। ফলে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘ব্রালেস’ বা ব্রা ছাড়া পোশাক পরার প্রবণতা।

গরমে অস্বস্তির কেন্দ্রবিন্দু

অনেক নারীর অভিজ্ঞতায়, প্রচলিত ব্রা—বিশেষ করে আন্ডারওয়্যার বা প্যাডযুক্ত ব্রা—গরমের দিনে অতিরিক্ত চাপ, ঘাম এবং অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ তাপমাত্রায় কাপড়ের ভেতরে ঘাম জমা হওয়া, ত্বকে ঘর্ষণ এবং সারাদিনের অস্বস্তি এড়াতে অনেকে এখন ঢিলেঢালা টি-শার্ট, হালকা পোশাক কিংবা নরম ব্রালেট বেছে নিচ্ছেন।

কেউ কেউ আবার অন্তর্বাসের পরিবর্তে বিল্ট-ইন সাপোর্টযুক্ত টপ, সাঁতারের পোশাক বা হালকা গ্রীষ্মকালীন পোশাক ব্যবহার করছেন। অনেকের মতে, তাপপ্রবাহের দিনে আরামই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Working Out in the Heat Is So Much Easier With These Expert-Backed Tips

শুধু তরুণীরা নন

এই প্রবণতা শুধু তরুণীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন বয়সের নারীরা প্রকাশ্যে বা ব্যক্তিগত জীবনে আরও স্বস্তিদায়ক পোশাকের দিকে ঝুঁকছেন। শহরের রাস্তাঘাট, ক্যাফে কিংবা সামাজিক আড্ডায় এমন দৃশ্য এখন আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

অনেকের বক্তব্য, প্রচণ্ড গরমে শরীরের স্বাভাবিক আরামকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাই ব্রা না পরার সিদ্ধান্তকে তারা ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের অংশ হিসেবে দেখছেন, কোনো ফ্যাশন বিবৃতি হিসেবে নয়।

ফ্যাশন জগতেও প্রভাব

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ফ্যাশন অনুষ্ঠান ও জনসমক্ষে উপস্থিতিতে বেশ কয়েকজন পরিচিত তারকাকে ব্রা ছাড়া পোশাক পরতে দেখা গেছে। এতে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।

ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট, কেট মস, চার্লি এক্সসিএক্স, গুইনেথ প্যালট্রো এবং রিটা ওরার মতো পরিচিত মুখদের সাম্প্রতিক উপস্থিতি এই আলোচনাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

So… Is No One Wearing Bras Anymore? - AOL

তবে সবাই যে এই পরিবর্তনের সঙ্গে একমত, তা নয়। অনেক নারী মনে করেন, বয়স, শারীরিক গঠন এবং ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে ব্রা এখনও তাদের জন্য প্রয়োজনীয়। কেউ কেউ মনে করেন, আরামের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ও সমর্থনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের শুরু?

তাপপ্রবাহের এই সময়ে একটি প্রশ্নও সামনে এসেছে—এটি কি সাময়িক প্রবণতা, নাকি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা?

কিছু পর্যবেক্ষকের মতে, মহামারির পর যেমন অনেক মানুষ নিয়মিত হাই হিল বা বড় হ্যান্ডব্যাগ ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন, তেমনি ব্রা নিয়েও নতুন করে ভাবছেন অনেক নারী। আরাম, খরচ এবং ব্যবহারিক সুবিধার প্রশ্নে ভবিষ্যতে আরও নমনীয় পোশাক-সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো, সব নারীর অভিজ্ঞতা এক নয়। কারও জন্য ব্রা ছাড়া থাকা সহজ ও স্বস্তিদায়ক, আবার অন্যদের জন্য তা শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর হতে পারে। ফলে ‘ব্রালেস সামার’ নিয়ে আলোচনা যতই বাড়ুক, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি থেকে যাচ্ছে ব্যক্তিগত পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয় হিসেবেই।