কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসায় বৃহস্পতিবার এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় ও ভবিষ্যৎ ব্যবসার আশাবাদী পূর্বাভাস বাজারে নতুন করে আস্থা ফিরিয়েছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির চাহিদা এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এ খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রযুক্তি খাতের ইতিবাচক বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে এআই-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যায়ন অত্যধিক বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে বড় চিপ নির্মাতাদের শক্তিশালী ব্যবসায়িক ফলাফল সেই উদ্বেগ কমিয়েছে।
একটি শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা জানিয়েছে, তাদের গ্রাহকেরা প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের চিপ ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে তাদের ডেটা সেন্টার ব্যবসা থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রির লক্ষ্য রয়েছে।

এই খবরের পর জাপানের নিক্কেই সূচক ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লাফিয়েছে। তাইওয়ানের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কতা
যদিও সাম্প্রতিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে, তবুও অনেক বিশ্লেষক দীর্ঘমেয়াদে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, এআই খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন এখনও বেশ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
তবে বাজারে এখনো এমন একটি মনোভাব কাজ করছে যে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা না এলে বিনিয়োগকারীরা সুযোগ পেলেই প্রযুক্তি খাতের শেয়ার কিনতে আগ্রহী থাকবেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে রেকর্ড গতি
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতও এআই বিনিয়োগের জোয়ারে বড় সুবিধা পাচ্ছে। দেশটির একটি শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রায় ২৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
বছরের শুরু থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক উত্থান হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে দেশটির বাজার বিশ্বের সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা বাজারগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

যুদ্ধ-উদ্বেগ কমায় তেলের দাম নিচে
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল শুরু করায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ হ্রাস পেয়েছে।
ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারের কিছু বেশি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ৭০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এতে যুদ্ধকালীন সময়ে তেলের দামে যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি হয়েছিল, তার প্রায় পুরোটা মুছে গেছে।
ডলার শক্তিশালী, চাপে ইয়েন ও স্বর্ণ
সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে জাপানি ইয়েন প্রায় চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রয়োজন হলে জাপান আবারও মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তবে শুধু এককভাবে পদক্ষেপ নিলে তার কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।
অন্যদিকে শক্তিশালী ডলারের কারণে স্বর্ণের দামও চাপে রয়েছে। চলতি বছরে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্ববাজারে এআই খাতের নতুন আশাবাদ, তেলের দাম কমা এবং মুদ্রাবাজারের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী অর্থনৈতিক তথ্য ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















