মার্কিন অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকবে এবং সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে ডলারের শক্তি আরও বেড়েছে। ফলে ইউরো, জাপানি ইয়েনসহ প্রধান কয়েকটি মুদ্রার বিপরীতে ডলার ১৩ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও বিটকয়েনের মতো সম্পদের ওপরও এর প্রভাব পড়েছে।
ডলারের টানা উত্থান
চলতি সপ্তাহে ইউরোর বিপরীতে ডলার উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় এটি গত প্রায় এক বছরে সবচেয়ে বড় মাসিক উত্থানের পথে রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের শক্ত ভিত্তি স্বল্পমেয়াদি সুদের হারকে উঁচুতে ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও ডলার বহু বছরের উচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে ডলারের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্বর্ণ ও বিটকয়েনে চাপ
ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। একইভাবে বিটকয়েনের দামও ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ৬০ হাজার ডলারের নিচে চলে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত বিকল্প বিনিয়োগ খাতগুলো চাপের মুখে পড়ে, কারণ বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন মুদ্রা ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে যান।
সুদের হার নিয়ে নতুন হিসাব
কিছুদিন আগেও বাজারে ধারণা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানো হতে পারে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ ধারণা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক বক্তব্যও এই প্রত্যাশাকে জোরদার করেছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদি মার্কিন সরকারি বন্ডের ফলন বেড়েছে এবং ইউরোপীয় বন্ডের তুলনায় ব্যবধান আরও বিস্তৃত হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অর্থনীতির প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উন্নয়ন ডলারকে দীর্ঘমেয়াদে সমর্থন দিচ্ছে। শক্তিশালী করপোরেট আয় এবং বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহও মার্কিন মুদ্রার পক্ষে কাজ করছে।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে অনেক বিনিয়োগকারী তাদের সম্পদের একটি অংশ ডলারে স্থানান্তর করছেন, যা ডলারের উত্থানকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের দিকে নজর
এখন বাজারের প্রধান নজর যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির সূচকের দিকে। এই তথ্য থেকে ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারে।
জাপানের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা
ডলারের বিপরীতে ইয়েন আরও দুর্বল হলে জাপান সরকার মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর আরও বাড়লে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিশ্ববাজারে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ডলারের এই উত্থান কতদিন স্থায়ী হবে। তবে আপাতত শক্তিশালী মার্কিন অর্থনীতি এবং সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা ডলারকে এগিয়ে রাখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















