০৫:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পর সরিয়ে নেওয়া কার্যক্রম স্থগিত, বাড়ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বেগ ডেনমার্কে আজান নিষিদ্ধের নতুন উদ্যোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র জ্বালানি বাজার এখনও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভরশীল অস্ট্রেলিয়ায় বার্ড ফ্লু শনাক্ত, পোলট্রি খাতে বাড়ছে শঙ্কা দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়লেন সাঘাটার বিএনপি-সমর্থক শিকড়, পাসপোর্ট ও ফুটবল: বিশ্বকাপের নতুন জাতীয়তার গল্প সাত মসজিদ এলাকায় অভিযান: মোহাম্মদপুরে ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার জাপানের সামনে ব্রাজিল চ্যালেঞ্জ, ‘গুরুতর ব্রাজিল’-এর বিপক্ষে লড়াইয়ে আশাবাদী মোরিয়াসু সুইডেনের সঙ্গে ড্র, নকআউটে উঠে এবার ব্রাজিলের মুখোমুখি জাপান নতুন তেলের যুগের সূচনা: হরমুজ সংকট কি জীবাশ্ম জ্বালানির আধিপত্যে ফাটল ধরাল?

নতুন তেলের যুগের সূচনা: হরমুজ সংকট কি জীবাশ্ম জ্বালানির আধিপত্যে ফাটল ধরাল?

  • রন বুসো
  • ০৩:৪০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • 4

বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে কিছু সংকট কেবল সাময়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথও খুলে দেয়। হরমুজ প্রণালিতে শতাধিক দিনের জ্বালানি সরবরাহ সংকট হয়তো তেমনই একটি ঘটনা। সংকট শেষ হয়েছে, তেলবাহী জাহাজ আবার চলাচল শুরু করেছে, কিন্তু বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থার ভেতরে যে অনিশ্চয়তা ও দুর্বলতা উন্মোচিত হয়েছে, তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

প্রশ্ন হলো, এই সংকট কি শুধু একটি সাময়িক বাজার ধাক্কা, নাকি এটি এমন একটি মোড়, যেখান থেকে বিশ্ব ধীরে ধীরে তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে আরও দ্রুত এগোবে?

১৯৭৩ সালের প্রতিধ্বনি

জ্বালানি ইতিহাসে ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। পশ্চিমা বিশ্ব তখন উপলব্ধি করেছিল যে সস্তা ও সহজলভ্য তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়, মুদ্রাস্ফীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং অর্থনীতিগুলো নতুন করে নিজেদের জ্বালানি কৌশল সাজাতে বাধ্য হয়।

তবে সেই সংকটের পর বিশ্ব তেল ব্যবহার বন্ধ করেনি। বরং একই জ্বালানি আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করার উপায় খুঁজেছে। গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বেড়েছে, নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, কৌশলগত মজুত গড়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হয়েছে।

হরমুজ সংকটও হয়তো একই ধরনের পুনর্বিন্যাসের সূচনা করছে। তবে এবার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প কার্যত ছিল না। আজ রয়েছে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং উন্নত পারমাণবিক শক্তির মতো বাস্তব বিকল্প।

সংযুক্ত বিশ্বের দুর্বলতা

গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজার একটি অত্যন্ত জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার ট্যাংকার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, আর্থিক বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খল একসঙ্গে এই ব্যবস্থাকে সচল রাখে।

হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ব্যবস্থার অভিযোজন ক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও তা সীমাহীন নয়। বাজার বিকল্প সরবরাহ খুঁজেছে, মজুত ব্যবহার করেছে এবং কিছু দেশ আমদানি কমিয়েছে। কিন্তু এগুলো ছিল সময় কেনার কৌশল, স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর তাদের নির্ভরতা এত বেশি যে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন সংজ্ঞা

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা। কিন্তু হরমুজ সংকট নতুন একটি বাস্তবতা সামনে এনেছে—জ্বালানির দাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরবরাহের নিশ্চয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণে ভারত, পাকিস্তান, জাপানসহ বড় আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি, স্থানীয় জ্বালানি উৎপাদন এবং বিকল্প উৎসে বিনিয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

নবায়নযোগ্য শক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং কিছু ক্ষেত্রে এমনকি কয়লাভিত্তিক উৎপাদনও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—একক কোনো অঞ্চল বা সরবরাহ উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।

ইউরোপের অভিজ্ঞতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ইউরোপ ইতোমধ্যেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক আরেকটি বড় ধাক্কা তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁক আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

টাকার প্রবাহ বলছে কী?

যেকোনো বড় পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হলো বিনিয়োগ। সাম্প্রতিক প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পুঁজি ক্রমশ এমন খাতে যাচ্ছে, যা তেল ও গ্যাসের বিকল্প তৈরি করতে পারে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সৌর প্যানেলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির নীতিও নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ সবচেয়ে নিরাপদ জ্বালানি অনেক সময় সেই জ্বালানি, যা ব্যবহারই করতে হয় না।

তেলের সমাপ্তি নয়, কিন্তু দিক পরিবর্তনের শুরু

বাস্তবতা হলো, তেল ও গ্যাস আগামী কয়েক দশকেও বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবেই থাকবে। পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ এবং শিল্প উৎপাদনের বহু খাত এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তদুপরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার এবং বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা গ্যাসের গুরুত্বও বজায় রাখবে।

তবু হরমুজ সংকট একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে: ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থার ভিত্তি কি এমন একটি সম্পদ হতে পারে, যার সরবরাহ একটি সংকীর্ণ জলপথের ওপর এতটা নির্ভরশীল?

সম্ভবত এখানেই এই সংকটের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য। এটি তেলের যুগের অবসান ঘটাবে না, কিন্তু সেই যুগের অনিবার্য সম্প্রসারণের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গত শতাব্দীতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার প্রায় সব সময়ই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। হরমুজ সংকট হয়তো প্রথমবারের মতো বিশ্বকে ভাবতে বাধ্য করছে—সামনের পথ কি আর একই থাকবে?

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পর সরিয়ে নেওয়া কার্যক্রম স্থগিত, বাড়ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বেগ

নতুন তেলের যুগের সূচনা: হরমুজ সংকট কি জীবাশ্ম জ্বালানির আধিপত্যে ফাটল ধরাল?

০৩:৪০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে কিছু সংকট কেবল সাময়িক অস্থিরতা সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথও খুলে দেয়। হরমুজ প্রণালিতে শতাধিক দিনের জ্বালানি সরবরাহ সংকট হয়তো তেমনই একটি ঘটনা। সংকট শেষ হয়েছে, তেলবাহী জাহাজ আবার চলাচল শুরু করেছে, কিন্তু বিশ্ব জ্বালানি ব্যবস্থার ভেতরে যে অনিশ্চয়তা ও দুর্বলতা উন্মোচিত হয়েছে, তার প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

প্রশ্ন হলো, এই সংকট কি শুধু একটি সাময়িক বাজার ধাক্কা, নাকি এটি এমন একটি মোড়, যেখান থেকে বিশ্ব ধীরে ধীরে তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে আরও দ্রুত এগোবে?

১৯৭৩ সালের প্রতিধ্বনি

জ্বালানি ইতিহাসে ১৯৭৩ সালের আরব তেল অবরোধ ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। পশ্চিমা বিশ্ব তখন উপলব্ধি করেছিল যে সস্তা ও সহজলভ্য তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। তেলের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়, মুদ্রাস্ফীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং অর্থনীতিগুলো নতুন করে নিজেদের জ্বালানি কৌশল সাজাতে বাধ্য হয়।

তবে সেই সংকটের পর বিশ্ব তেল ব্যবহার বন্ধ করেনি। বরং একই জ্বালানি আরও দক্ষভাবে ব্যবহার করার উপায় খুঁজেছে। গাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বেড়েছে, নতুন তেলক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে, কৌশলগত মজুত গড়ে উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হয়েছে।

হরমুজ সংকটও হয়তো একই ধরনের পুনর্বিন্যাসের সূচনা করছে। তবে এবার একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প কার্যত ছিল না। আজ রয়েছে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং উন্নত পারমাণবিক শক্তির মতো বাস্তব বিকল্প।

সংযুক্ত বিশ্বের দুর্বলতা

গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজার একটি অত্যন্ত জটিল ও আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার ট্যাংকার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, আর্থিক বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খল একসঙ্গে এই ব্যবস্থাকে সচল রাখে।

হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া দেখিয়ে দিয়েছে যে এই ব্যবস্থার অভিযোজন ক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও তা সীমাহীন নয়। বাজার বিকল্প সরবরাহ খুঁজেছে, মজুত ব্যবহার করেছে এবং কিছু দেশ আমদানি কমিয়েছে। কিন্তু এগুলো ছিল সময় কেনার কৌশল, স্থায়ী সমাধান নয়।

বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর তাদের নির্ভরতা এত বেশি যে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বিঘ্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তার নতুন সংজ্ঞা

দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল সবচেয়ে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করা। কিন্তু হরমুজ সংকট নতুন একটি বাস্তবতা সামনে এনেছে—জ্বালানির দাম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরবরাহের নিশ্চয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণে ভারত, পাকিস্তান, জাপানসহ বড় আমদানিনির্ভর দেশগুলো এখন কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি, স্থানীয় জ্বালানি উৎপাদন এবং বিকল্প উৎসে বিনিয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

নবায়নযোগ্য শক্তি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং কিছু ক্ষেত্রে এমনকি কয়লাভিত্তিক উৎপাদনও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—একক কোনো অঞ্চল বা সরবরাহ উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো।

ইউরোপের অভিজ্ঞতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প খুঁজতে গিয়ে ইউরোপ ইতোমধ্যেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। এখন মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক আরেকটি বড় ধাক্কা তাদের নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁক আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

টাকার প্রবাহ বলছে কী?

যেকোনো বড় পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক হলো বিনিয়োগ। সাম্প্রতিক প্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পুঁজি ক্রমশ এমন খাতে যাচ্ছে, যা তেল ও গ্যাসের বিকল্প তৈরি করতে পারে।

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সৌর প্যানেলের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার মতো অঞ্চলে নবায়নযোগ্য শক্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধির নীতিও নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ সবচেয়ে নিরাপদ জ্বালানি অনেক সময় সেই জ্বালানি, যা ব্যবহারই করতে হয় না।

তেলের সমাপ্তি নয়, কিন্তু দিক পরিবর্তনের শুরু

বাস্তবতা হলো, তেল ও গ্যাস আগামী কয়েক দশকেও বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবেই থাকবে। পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ এবং শিল্প উৎপাদনের বহু খাত এখনও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। তদুপরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সেন্টার এবং বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা গ্যাসের গুরুত্বও বজায় রাখবে।

তবু হরমুজ সংকট একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে: ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থার ভিত্তি কি এমন একটি সম্পদ হতে পারে, যার সরবরাহ একটি সংকীর্ণ জলপথের ওপর এতটা নির্ভরশীল?

সম্ভবত এখানেই এই সংকটের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য। এটি তেলের যুগের অবসান ঘটাবে না, কিন্তু সেই যুগের অনিবার্য সম্প্রসারণের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গত শতাব্দীতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার প্রায় সব সময়ই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। হরমুজ সংকট হয়তো প্রথমবারের মতো বিশ্বকে ভাবতে বাধ্য করছে—সামনের পথ কি আর একই থাকবে?