০৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
চীন-রাশিয়ার যৌথ আকাশ টহল: পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত বার্তা করাচিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা, পেশোয়ারে তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৪১ ডিগ্রি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক: ১০ জনের জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে ১০-স্তরের লিভার প্রতিস্থাপন জার্মানিতে ৪১ ডিগ্রি পেরিয়ে তাপমাত্রার রেকর্ড, ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে বাড়ছে উদ্বেগ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিহত ৮ একের পর এক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘গোপন তৎপরতার’ অভিযোগে ভারতের সমালোচনা পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত, সমালোচনার মুখে সরকারের ব্যাখ্যা আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী ব্যাংক অব আমেরিকার প্রধান, ভোক্তাদের ব্যয় এখনো শক্তিশালী আমেরিকার ২৫০ বছরে নতুন মোড়: বিশ্বনেতৃত্ব থেকে নিজেদের ঘরে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র নাসডাকে স্পেসএক্সের ঝড়, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

সিরাজগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ধানগড়া বাজার এলাকায় তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তাঁতশিল্পে বড় ধাক্কা

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের তাঁতশিল্পে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁতকলের মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁতশ্রমিকদের ভাষ্য, কাজে যোগ দেওয়ার পরও অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বসে থাকতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত তাঁতকল বন্ধ থাকে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছা ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাও একটানা নয়; ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার কার্যক্রম সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভুঁইয়াগাতি জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক নিজামুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যালয় ঘেরাও করেছিলেন।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্থানীয়রা। বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁতশিল্প ও শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-রাশিয়ার যৌথ আকাশ টহল: পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত বার্তা

সিরাজগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসী

০৫:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ধানগড়া বাজার এলাকায় তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তাঁতশিল্পে বড় ধাক্কা

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের তাঁতশিল্পে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁতকলের মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁতশ্রমিকদের ভাষ্য, কাজে যোগ দেওয়ার পরও অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বসে থাকতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত তাঁতকল বন্ধ থাকে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছা ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাও একটানা নয়; ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার কার্যক্রম সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভুঁইয়াগাতি জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক নিজামুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যালয় ঘেরাও করেছিলেন।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্থানীয়রা। বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁতশিল্প ও শিক্ষার্থীরা।