পাকিস্তানের একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকরা সফলভাবে ১০-স্তরের জীবিত দাতা লিভার প্রতিস্থাপন চেইন সম্পন্ন করেছেন, যার মাধ্যমে ১০ জন রোগী নতুন জীবন পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে দেশজুড়ে একটি জাতীয় সোয়াপ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কর্মসূচি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় পরিবারের সদস্য বা নিকট আত্মীয় লিভার দান করতে আগ্রহী থাকলেও রক্তের গ্রুপ, লিভারের আকার বা অন্যান্য চিকিৎসাগত কারণে সেই দান সম্ভব হয় না। এই সমস্যার সমাধান হিসেবেই সোয়াপ লিভার প্রতিস্থাপন পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
কীভাবে কাজ করে সোয়াপ পদ্ধতি
সোয়াপ লিভার প্রতিস্থাপনে একজন দাতা নিজের আত্মীয়কে সরাসরি লিভার দিতে না পারলেও অন্য একজন উপযুক্ত রোগীকে লিভারের অংশ দান করেন। এরপর সেই রোগীর পরিবারের দাতা আবার প্রথম রোগীর জন্য উপযুক্ত দাতা হিসেবে কাজ করেন। এভাবে একাধিক দাতা ও রোগীকে একটি সমন্বিত চেইনের মধ্যে যুক্ত করে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পদ্ধতি দাতা ও গ্রহীতার অমিলজনিত সমস্যার সমাধান করে এবং অনেক রোগীর জন্য প্রতিস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
২৪ ঘণ্টায় ২০টি অস্ত্রোপচার
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ১০ জন দাতা এবং ১০ জন গ্রহীতার মোট ২০টি অস্ত্রোপচার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, এটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও সূক্ষ্ম পরিকল্পনার কাজ, যেখানে সার্জন, অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, নার্স এবং নিবিড় পরিচর্যা দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়েছে।
চিকিৎসা দল বলছে, এই সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে যে দাতা-গ্রহীতা অমিল কোনো রোগীর প্রতিস্থাপন যাত্রার শেষ কথা নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জটিল সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

জাতীয় কর্মসূচির প্রস্তাব
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এখন একটি জাতীয় সোয়াপ লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কর্মসূচি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিস্থাপন কেন্দ্র থেকে আসা অমিল দাতা-গ্রহীতা জুটির জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এই নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে উন্নত মিল খোঁজার সুযোগ তৈরি হবে, অপেক্ষার সময় কমবে, প্রতিস্থাপনের সাফল্যের হার বাড়বে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রোগীরা সমান সুযোগ পাবেন।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা সবসময় দাতার অভাব নয়; বরং উপযুক্ত দাতার অভাব। জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বহু রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সাম্প্রতিক এই সাফল্য শুধু একটি চিকিৎসা অর্জন নয়, বরং ভবিষ্যতে লিভার প্রতিস্থাপন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার পথও খুলে দিতে পারে।
কম দাতা, বেশি সমাধান—১০-স্তরের লিভার প্রতিস্থাপনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন সাফল্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















