০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
চীন-রাশিয়ার যৌথ আকাশ টহল: পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত বার্তা করাচিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা, পেশোয়ারে তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৪১ ডিগ্রি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন মাইলফলক: ১০ জনের জীবন বাঁচাতে একসঙ্গে ১০-স্তরের লিভার প্রতিস্থাপন জার্মানিতে ৪১ ডিগ্রি পেরিয়ে তাপমাত্রার রেকর্ড, ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে বাড়ছে উদ্বেগ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিহত ৮ একের পর এক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘গোপন তৎপরতার’ অভিযোগে ভারতের সমালোচনা পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত, সমালোচনার মুখে সরকারের ব্যাখ্যা আমেরিকার অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী ব্যাংক অব আমেরিকার প্রধান, ভোক্তাদের ব্যয় এখনো শক্তিশালী আমেরিকার ২৫০ বছরে নতুন মোড়: বিশ্বনেতৃত্ব থেকে নিজেদের ঘরে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র নাসডাকে স্পেসএক্সের ঝড়, বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

নতুন বিপর্যয়ে থমকে গেল ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি, ভূমিকম্পের ধাক্কায় পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অনিশ্চিত

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাপক জনপলায়নের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল ভেনেজুয়েলা। তেল উৎপাদন বাড়ছিল, আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ চলছিল এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলো নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছিল। কিন্তু এই সপ্তাহের পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সেই আশার পথকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্রই ভয়াবহ। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। প্রায় ১,৪০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি হাসপাতাল। শত শত আফটারশকের কারণে বহু মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) হিসাব অনুযায়ী, মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ

ভেনেজুয়েলার সরকারকে এখন একসঙ্গে বহু সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানো, গৃহহীন মানুষদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া, হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি সেবা পুনরায় সচল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ—সবকিছুর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভূমিকম্পের আগেও দেশটির পুনর্গঠনের চাহিদা ছিল বিশাল। এখন সেই চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ঋণের বোঝা সরকারের জন্য নতুন করে অর্থ সংগ্রহকে কঠিন করে তুলেছে।

মার্কিন ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা

চলতি বছরের শুরুতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নতুন প্রশাসন দেশটির নেতৃত্ব গ্রহণ করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনকে নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছিল। তবে ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষই উদ্ধার তৎপরতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রশাসনের ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বেড়েছে।

Venezuela declares state of emergency after powerful twin quakes leave at least 188 dead, more than 1,520 injured

তেল খাত এখনও আশার আলো

সবকিছুর মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ পারাগুয়ানা তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স ভূমিকম্পের বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি তেল রপ্তানি। ভূমিকম্পের আগে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ছিল এবং অর্থনীতিতে দ্বিগুণ অঙ্কের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা এখন পুনর্গঠন কার্যক্রমের গতির ওপর নির্ভর করছে।

ঋণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা

ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে পুনরায় কাজ শুরু করেছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০০ মিলিয়ন ডলার পুনর্গঠন সহায়তা পেয়েছে। তবে দেশটির মোট দায় ও ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়, যা নতুন অর্থায়ন পাওয়ার পথে বড় বাধা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকম্প-পরবর্তী সহায়তা হিসেবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

পরিসংখ্যানের প্রবৃদ্ধি বনাম বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পুনর্নির্মাণ ব্যয়ের কারণে আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে পারে। কিন্তু জিডিপির এমন বৃদ্ধি বাস্তব ক্ষতির পুরো চিত্র তুলে ধরবে না। হাজারো প্রাণহানি, গৃহহীনতা, মানসিক আঘাত এবং সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।

তাই ভেনেজুয়েলার সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট সামাল দেওয়া। বহু বছরের সংকটের পর যখন দেশটি পুনর্জাগরণের আশা দেখছিল, তখন নতুন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেই পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

ভূমিকম্পের ধাক্কায় ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি নতুন সংকটে, পুনর্গঠন ব্যয় ও মানবিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-রাশিয়ার যৌথ আকাশ টহল: পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত বার্তা

নতুন বিপর্যয়ে থমকে গেল ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি, ভূমিকম্পের ধাক্কায় পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অনিশ্চিত

০৫:৫২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ব্যাপক জনপলায়নের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছিল ভেনেজুয়েলা। তেল উৎপাদন বাড়ছিল, আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ চলছিল এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলো নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছিল। কিন্তু এই সপ্তাহের পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সেই আশার পথকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক চিত্রই ভয়াবহ। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। প্রায় ১,৪০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৩টি হাসপাতাল। শত শত আফটারশকের কারণে বহু মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (USGS) হিসাব অনুযায়ী, মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে।

পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জ

ভেনেজুয়েলার সরকারকে এখন একসঙ্গে বহু সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরানো, গৃহহীন মানুষদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া, হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি সেবা পুনরায় সচল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ—সবকিছুর জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভূমিকম্পের আগেও দেশটির পুনর্গঠনের চাহিদা ছিল বিশাল। এখন সেই চাপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ঋণের বোঝা সরকারের জন্য নতুন করে অর্থ সংগ্রহকে কঠিন করে তুলেছে।

মার্কিন ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে প্রত্যাশা

চলতি বছরের শুরুতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নতুন প্রশাসন দেশটির নেতৃত্ব গ্রহণ করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার পুনর্গঠনকে নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছিল। তবে ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষই উদ্ধার তৎপরতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রশাসনের ওপর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বেড়েছে।

Venezuela declares state of emergency after powerful twin quakes leave at least 188 dead, more than 1,520 injured

তেল খাত এখনও আশার আলো

সবকিছুর মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ পারাগুয়ানা তেল শোধনাগার কমপ্লেক্স ভূমিকম্পের বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরন জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি তেল রপ্তানি। ভূমিকম্পের আগে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ছিল এবং অর্থনীতিতে দ্বিগুণ অঙ্কের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা এখন পুনর্গঠন কার্যক্রমের গতির ওপর নির্ভর করছে।

ঋণ ও আন্তর্জাতিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা

ভেনেজুয়েলা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে পুনরায় কাজ শুরু করেছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০০ মিলিয়ন ডলার পুনর্গঠন সহায়তা পেয়েছে। তবে দেশটির মোট দায় ও ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়, যা নতুন অর্থায়ন পাওয়ার পথে বড় বাধা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভূমিকম্প-পরবর্তী সহায়তা হিসেবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য কিছু আর্থিক নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

পরিসংখ্যানের প্রবৃদ্ধি বনাম বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পুনর্নির্মাণ ব্যয়ের কারণে আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়তে পারে। কিন্তু জিডিপির এমন বৃদ্ধি বাস্তব ক্ষতির পুরো চিত্র তুলে ধরবে না। হাজারো প্রাণহানি, গৃহহীনতা, মানসিক আঘাত এবং সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।

তাই ভেনেজুয়েলার সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে একটি ভয়াবহ মানবিক সংকট সামাল দেওয়া। বহু বছরের সংকটের পর যখন দেশটি পুনর্জাগরণের আশা দেখছিল, তখন নতুন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেই পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

ভূমিকম্পের ধাক্কায় ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি নতুন সংকটে, পুনর্গঠন ব্যয় ও মানবিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।