১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে জুনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব হামলায় নিহত ৪০, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ইরানের আলোচক হত্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা ট্রাম্পের ২২০ কোটি ডলারের ব্যক্তিগত আয়, নীরব ম্যাগা সমর্থকরা লালমনিরহাটে বজ্রপাতে ট্রান্সফরমার বিকল, চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ২২ হাজার গ্রাহক নাটকীয় জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বিদায়, স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল খুলনায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে ৫০ জনের বেশি আ.লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস, টানা ৫১৯ মিনিট গোলহীন থাকার রেকর্ড জীবনের সবকিছু মাপতে গিয়ে কী আমরা সুখ হারাচ্ছি? রফতানিতে ধসের সংকেত, বন্ধ হচ্ছে কারখানা: বড় চাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বয়সের বিরুদ্ধে লড়াই, নাকি সমাজের কাছে আত্মসমর্পণ? ম্যাডোনাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

জীবনের সবকিছু মাপতে গিয়ে কী আমরা সুখ হারাচ্ছি?

মানুষের জীবনকে আরও উন্নত, আরও দক্ষ এবং আরও স্বাস্থ্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগ এগিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করেছি, যত বেশি তথ্য সংগ্রহ করা যাবে, তত ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে আজ ঘুমের মান থেকে শুরু করে হাঁটার সংখ্যা, ক্যালোরি গ্রহণ, কাজের উৎপাদনশীলতা—প্রায় সবকিছুই পরিমাপের আওতায় এসেছে। এমনকি অবসর কাটানো, ছুটি উপভোগ করা কিংবা বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রেও যেন একটি অদৃশ্য হিসাবনিকাশ কাজ করে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত পরিমাপ কি সত্যিই আমাদের আরও সুখী করেছে?

বাস্তবতা বলছে, বিষয়টি উল্টোও হতে পারে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উন্নত করার অবিরাম চেষ্টায় মানুষ ধীরে ধীরে এমন এক মানসিক চাপে পড়ছে, যেখানে কোনো কিছুই আর শুধুই উপভোগের জন্য করা হয় না। প্রতিটি কাজের পেছনে থাকতে হয় একটি লক্ষ্য, একটি ফলাফল কিংবা একটি দৃশ্যমান অর্জন। বিশ্রামও যেন কেবল পরবর্তী কাজের প্রস্তুতি।

এখানেই আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট। আমরা দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যে সংস্কৃতি তৈরি করেছি, সেটিই অনেক সময় আমাদের মানসিক স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে। ঘুম ভালো হয়েছে কি না, ব্যায়াম যথেষ্ট হয়েছে কি না, দিনের কাজ নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ নিজের অনুভূতির ওপর ভরসা করাই ভুলে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ চার্লস গুডহার্টের একটি বহুল আলোচিত পর্যবেক্ষণ এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কোনো সূচক যখন নিজেই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটি আর প্রকৃত মূল্যায়নের কার্যকর উপায় থাকে না। বর্তমান সমাজে যেন মানুষের জীবনও সেই ফাঁদে আটকে গেছে। সুস্থ থাকা, সুখী থাকা কিংবা অর্থবহ জীবন যাপন—এসব আর স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা নয়; এগুলোও এখন পরিণত হয়েছে অর্জনযোগ্য লক্ষ্যে।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মানুষ যে সমস্যাটি বুঝতে পারছে না, তা নয়। অধিকাংশ মানুষই জানেন যে বিশ্রাম, আনন্দ এবং খেলাধুলার মতো স্বতঃস্ফূর্ত অভিজ্ঞতা মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তবু বাস্তবে অনেকেই এমন কোনো কাজে সময় দিতে অপরাধবোধে ভোগেন, যার সরাসরি কোনো উৎপাদনশীল ফল নেই। যেন প্রতিটি অবসর মুহূর্তেরও একটি অর্থনৈতিক বা ব্যবহারিক মূল্য থাকতে হবে।

এটি কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তন নয়; এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। আমরা ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজ গড়েছি, যেখানে ব্যস্ত থাকাই মর্যাদার প্রতীক, আর অবসর যেন অলসতার সমার্থক। ফলে মানুষ বিশ্রাম নিলেও পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। কাজ না করলেও মনে হয় কিছু একটা করা উচিত ছিল।

এই বাস্তবতার বিপরীতে শিশুদের দিকে তাকালে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শিশুরা খেলে কারণ খেলতে ভালো লাগে। তারা কোনো দক্ষতার সূচক বাড়ানোর জন্য খেলায় অংশ নেয় না। তাদের কাছে আনন্দ, শেখা, কল্পনা, সৃজনশীলতা এবং বিকাশ আলাদা কোনো বিষয় নয়; সবকিছু একই অভিজ্ঞতার অংশ।

একটি দুর্গ বানানো, বন্ধুদের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করা, গল্প তৈরি করা কিংবা কল্পনার জগৎ নির্মাণ করা—এসব তাদের কাছে খেলাও, শেখাও। তারা আনন্দকে উন্নতির বিপরীতে দাঁড় করায় না। বরং আনন্দের মধ্য দিয়েই তাদের বিকাশ ঘটে।

সাফল্যের মাপকাঠি আসলে কী

শিক্ষাবিদদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা যোগাযোগ, সহযোগিতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং সৃজনশীল চিন্তার মতো এমন সব দক্ষতা অর্জন করে, যা ভবিষ্যতের সাফল্য ও মানসিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়।

প্রশ্ন হলো, বড় হওয়ার পর আমরা কেন এই স্বাভাবিক সক্ষমতাটি হারিয়ে ফেলি?

সম্ভবত কারণ আমরা নিজেদের মূল্যায়ন করতে শুরু করি অন্যের চোখে দৃশ্যমান ফলাফল দিয়ে। শিশুরা যেমন উদ্দেশ্যহীনভাবে আনন্দ করার স্বাধীনতা পায়, প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের সেই স্বাধীনতা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন। অথচ আমরা নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও চাই না যে তাদের মূল্য কেবল পরীক্ষার নম্বর বা আর্থিক সাফল্যে নির্ধারিত হোক। কিন্তু নিজেদের জীবনে ঠিক সেটাই প্রয়োগ করি।

এই দ্বৈততা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। খেলাধুলা, অবসর বা আনন্দের গুরুত্ব কেবল এই কারণে নয় যে এগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। বরং কিছু বিষয়ের মূল্য ঠিক এই কারণেই, যে সেগুলোকে কোনো সংখ্যায় মাপা যায় না।

শৈশবের যে স্মৃতিগুলো মানুষ সবচেয়ে বেশি মনে রাখে, সেগুলোর বেশিরভাগই কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ ছিল না। সেগুলো ছিল নিছক বেঁচে থাকার, উপভোগ করার এবং মানুষ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা।

এদিকে স্মার্ট পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির বাজার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও অনেক অংশ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের আওতায় আসবে। এই বাস্তবতায় প্রযুক্তিকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু প্রযুক্তির বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সব অভিজ্ঞতাকে সংখ্যায় রূপ দেওয়াও জরুরি নয়। কখনও কখনও ফোন বন্ধ রাখা, লক্ষ্যহীনভাবে হাঁটা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই আনন্দ করা—এসবই হতে পারে মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুশীলন।

কারণ জীবনকে কেবল আরও দক্ষ করে তোলাই মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। জীবনকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে পারাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে জুনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব হামলায় নিহত ৪০, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

জীবনের সবকিছু মাপতে গিয়ে কী আমরা সুখ হারাচ্ছি?

১০:০০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মানুষের জীবনকে আরও উন্নত, আরও দক্ষ এবং আরও স্বাস্থ্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগ এগিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করেছি, যত বেশি তথ্য সংগ্রহ করা যাবে, তত ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে আজ ঘুমের মান থেকে শুরু করে হাঁটার সংখ্যা, ক্যালোরি গ্রহণ, কাজের উৎপাদনশীলতা—প্রায় সবকিছুই পরিমাপের আওতায় এসেছে। এমনকি অবসর কাটানো, ছুটি উপভোগ করা কিংবা বিশ্রাম নেওয়ার ক্ষেত্রেও যেন একটি অদৃশ্য হিসাবনিকাশ কাজ করে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত পরিমাপ কি সত্যিই আমাদের আরও সুখী করেছে?

বাস্তবতা বলছে, বিষয়টি উল্টোও হতে পারে। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উন্নত করার অবিরাম চেষ্টায় মানুষ ধীরে ধীরে এমন এক মানসিক চাপে পড়ছে, যেখানে কোনো কিছুই আর শুধুই উপভোগের জন্য করা হয় না। প্রতিটি কাজের পেছনে থাকতে হয় একটি লক্ষ্য, একটি ফলাফল কিংবা একটি দৃশ্যমান অর্জন। বিশ্রামও যেন কেবল পরবর্তী কাজের প্রস্তুতি।

এখানেই আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট। আমরা দক্ষতা বাড়ানোর জন্য যে সংস্কৃতি তৈরি করেছি, সেটিই অনেক সময় আমাদের মানসিক স্বস্তি কেড়ে নিচ্ছে। ঘুম ভালো হয়েছে কি না, ব্যায়াম যথেষ্ট হয়েছে কি না, দিনের কাজ নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করেছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ নিজের অনুভূতির ওপর ভরসা করাই ভুলে যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদ চার্লস গুডহার্টের একটি বহুল আলোচিত পর্যবেক্ষণ এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। কোনো সূচক যখন নিজেই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেটি আর প্রকৃত মূল্যায়নের কার্যকর উপায় থাকে না। বর্তমান সমাজে যেন মানুষের জীবনও সেই ফাঁদে আটকে গেছে। সুস্থ থাকা, সুখী থাকা কিংবা অর্থবহ জীবন যাপন—এসব আর স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা নয়; এগুলোও এখন পরিণত হয়েছে অর্জনযোগ্য লক্ষ্যে।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো, মানুষ যে সমস্যাটি বুঝতে পারছে না, তা নয়। অধিকাংশ মানুষই জানেন যে বিশ্রাম, আনন্দ এবং খেলাধুলার মতো স্বতঃস্ফূর্ত অভিজ্ঞতা মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। তবু বাস্তবে অনেকেই এমন কোনো কাজে সময় দিতে অপরাধবোধে ভোগেন, যার সরাসরি কোনো উৎপাদনশীল ফল নেই। যেন প্রতিটি অবসর মুহূর্তেরও একটি অর্থনৈতিক বা ব্যবহারিক মূল্য থাকতে হবে।

এটি কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাসের পরিবর্তন নয়; এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। আমরা ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজ গড়েছি, যেখানে ব্যস্ত থাকাই মর্যাদার প্রতীক, আর অবসর যেন অলসতার সমার্থক। ফলে মানুষ বিশ্রাম নিলেও পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারে না। কাজ না করলেও মনে হয় কিছু একটা করা উচিত ছিল।

এই বাস্তবতার বিপরীতে শিশুদের দিকে তাকালে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। শিশুরা খেলে কারণ খেলতে ভালো লাগে। তারা কোনো দক্ষতার সূচক বাড়ানোর জন্য খেলায় অংশ নেয় না। তাদের কাছে আনন্দ, শেখা, কল্পনা, সৃজনশীলতা এবং বিকাশ আলাদা কোনো বিষয় নয়; সবকিছু একই অভিজ্ঞতার অংশ।

একটি দুর্গ বানানো, বন্ধুদের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করা, গল্প তৈরি করা কিংবা কল্পনার জগৎ নির্মাণ করা—এসব তাদের কাছে খেলাও, শেখাও। তারা আনন্দকে উন্নতির বিপরীতে দাঁড় করায় না। বরং আনন্দের মধ্য দিয়েই তাদের বিকাশ ঘটে।

সাফল্যের মাপকাঠি আসলে কী

শিক্ষাবিদদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও একই কথা বলে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা যোগাযোগ, সহযোগিতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং সৃজনশীল চিন্তার মতো এমন সব দক্ষতা অর্জন করে, যা ভবিষ্যতের সাফল্য ও মানসিক সুস্থতার ভিত্তি গড়ে দেয়।

প্রশ্ন হলো, বড় হওয়ার পর আমরা কেন এই স্বাভাবিক সক্ষমতাটি হারিয়ে ফেলি?

সম্ভবত কারণ আমরা নিজেদের মূল্যায়ন করতে শুরু করি অন্যের চোখে দৃশ্যমান ফলাফল দিয়ে। শিশুরা যেমন উদ্দেশ্যহীনভাবে আনন্দ করার স্বাধীনতা পায়, প্রাপ্তবয়স্করা নিজেদের সেই স্বাধীনতা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন। অথচ আমরা নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও চাই না যে তাদের মূল্য কেবল পরীক্ষার নম্বর বা আর্থিক সাফল্যে নির্ধারিত হোক। কিন্তু নিজেদের জীবনে ঠিক সেটাই প্রয়োগ করি।

এই দ্বৈততা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। খেলাধুলা, অবসর বা আনন্দের গুরুত্ব কেবল এই কারণে নয় যে এগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়ায়। বরং কিছু বিষয়ের মূল্য ঠিক এই কারণেই, যে সেগুলোকে কোনো সংখ্যায় মাপা যায় না।

শৈশবের যে স্মৃতিগুলো মানুষ সবচেয়ে বেশি মনে রাখে, সেগুলোর বেশিরভাগই কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ ছিল না। সেগুলো ছিল নিছক বেঁচে থাকার, উপভোগ করার এবং মানুষ হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা।

এদিকে স্মার্ট পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির বাজার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। আগামী বছরগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের আরও অনেক অংশ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের আওতায় আসবে। এই বাস্তবতায় প্রযুক্তিকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু প্রযুক্তির বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সব অভিজ্ঞতাকে সংখ্যায় রূপ দেওয়াও জরুরি নয়। কখনও কখনও ফোন বন্ধ রাখা, লক্ষ্যহীনভাবে হাঁটা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো কিংবা কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই আনন্দ করা—এসবই হতে পারে মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অনুশীলন।

কারণ জীবনকে কেবল আরও দক্ষ করে তোলাই মানুষের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। জীবনকে সত্যিকার অর্থে উপভোগ করতে পারাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।