১২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ বাংলাদেশে জুনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব হামলায় নিহত ৪০, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ইরানের আলোচক হত্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা ট্রাম্পের ২২০ কোটি ডলারের ব্যক্তিগত আয়, নীরব ম্যাগা সমর্থকরা লালমনিরহাটে বজ্রপাতে ট্রান্সফরমার বিকল, চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ২২ হাজার গ্রাহক নাটকীয় জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বিদায়, স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল খুলনায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে ৫০ জনের বেশি আ.লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস, টানা ৫১৯ মিনিট গোলহীন থাকার রেকর্ড জীবনের সবকিছু মাপতে গিয়ে কী আমরা সুখ হারাচ্ছি? রফতানিতে ধসের সংকেত, বন্ধ হচ্ছে কারখানা: বড় চাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

ইরানের আলোচক হত্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ আলোচকদের হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় চলতি বছরের শান্তি আলোচনার সময় গভীর উদ্বেগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস ছিল, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়বে এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই আশঙ্কা এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক বার্তাও পাঠিয়েছিল।

আলোচনার মধ্যেও হত্যার শঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের কৌশলের অংশ ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। তবে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর আরাঘচি ও গালিবাফকে ঘিরে মার্কিন উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ছিল, ওই দুই নেতাকে হত্যা করা হলে আলোচনার সব অগ্রগতি নষ্ট হয়ে যাবে এবং যুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করবে।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দূরত্ব

প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য অনেকটাই মিল থাকলেও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে একটি রাজনৈতিক সমাধান ও শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে চেয়েছিল, সেখানে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করে। তাদের মতে, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা, প্রক্সি বাহিনী দুর্বল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না ফেললে যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি ও গালিবাফ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়।

তবে ইসরায়েলের বহু কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক এই সমঝোতাকে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেননি।

নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

আলোচনার পুরো সময়জুড়ে ইরান তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করে। এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৈঠকে যাওয়ার আগে ইরানি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, সফরের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার চেষ্টা করে তেহরান। ইসলামাবাদে যাতায়াতের সময় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে সীমান্ত থেকে গন্তব্য পর্যন্ত এবং ফেরার পথেও নিরাপত্তা দেয়।

ফেরার পথে নতুন সংকট

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ থেকে ফেরার সময় ইরানি নিরাপত্তা সংস্থার কাছে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে ইসরায়েল প্রতিনিধিদলের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ তথ্য পাওয়ার পর বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে ইরানের মাশহাদে অবতরণ করে।

এরপর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টার স্থলপথ পাড়ি দিয়ে তেহরানে ফিরে যান।

এর পরও আরাঘচি ও গালিবাফ কূটনৈতিক সফর অব্যাহত রাখেন। মে মাসের শেষ দিকে তারা কাতারে আলোচনা করেন এবং জুনে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইরানের শীর্ষ আলোচকদের হত্যার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং সেই প্রেক্ষাপটে শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখতে নেওয়া কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত।

#ইরান #ইসরায়েল #যুক্তরাষ্ট্র #শান্তিআলোচনা #মধ্যপ্রাচ্য #কূটনীতি #আব্বাসআরাঘচি #গালিবাফ #হরমুজপ্রণালি #সারাক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ

ইরানের আলোচক হত্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা

১১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েল ইরানের শীর্ষ আলোচকদের হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় চলতি বছরের শান্তি আলোচনার সময় গভীর উদ্বেগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস ছিল, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা হলে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙে পড়বে এবং নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই আশঙ্কা এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের মাধ্যমে ইরানকে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক বার্তাও পাঠিয়েছিল।

আলোচনার মধ্যেও হত্যার শঙ্কা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের কৌশলের অংশ ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা। তবে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর আরাঘচি ও গালিবাফকে ঘিরে মার্কিন উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ছিল, ওই দুই নেতাকে হত্যা করা হলে আলোচনার সব অগ্রগতি নষ্ট হয়ে যাবে এবং যুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করবে।

যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দূরত্ব

প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য অনেকটাই মিল থাকলেও পরবর্তী সময়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে একটি রাজনৈতিক সমাধান ও শান্তি চুক্তির দিকে এগোতে চেয়েছিল, সেখানে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় প্রকাশ করে। তাদের মতে, ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা, প্রক্সি বাহিনী দুর্বল করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে না ফেললে যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।

জুনে একটি কাঠামোগত সমঝোতা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাঘচি ও গালিবাফ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়।

তবে ইসরায়েলের বহু কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক এই সমঝোতাকে নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেননি।

নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

আলোচনার পুরো সময়জুড়ে ইরান তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করে। এপ্রিলে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বৈঠকে যাওয়ার আগে ইরানি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন, সফরের সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল হামলা চালাতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার চেষ্টা করে তেহরান। ইসলামাবাদে যাতায়াতের সময় পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ইরানি প্রতিনিধিদলের বিমানকে সীমান্ত থেকে গন্তব্য পর্যন্ত এবং ফেরার পথেও নিরাপত্তা দেয়।

ফেরার পথে নতুন সংকট

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ থেকে ফেরার সময় ইরানি নিরাপত্তা সংস্থার কাছে গোয়েন্দা তথ্য আসে যে ইসরায়েল প্রতিনিধিদলের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এ তথ্য পাওয়ার পর বিমানটি জরুরি ভিত্তিতে ইরানের মাশহাদে অবতরণ করে।

এরপর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রায় আট ঘণ্টার স্থলপথ পাড়ি দিয়ে তেহরানে ফিরে যান।

এর পরও আরাঘচি ও গালিবাফ কূটনৈতিক সফর অব্যাহত রাখেন। মে মাসের শেষ দিকে তারা কাতারে আলোচনা করেন এবং জুনে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠকে অংশ নেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন শান্তি আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ইরানের শীর্ষ আলোচকদের হত্যার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং সেই প্রেক্ষাপটে শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখতে নেওয়া কূটনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত।

#ইরান #ইসরায়েল #যুক্তরাষ্ট্র #শান্তিআলোচনা #মধ্যপ্রাচ্য #কূটনীতি #আব্বাসআরাঘচি #গালিবাফ #হরমুজপ্রণালি #সারাক্ষণ