১২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ বাংলাদেশে জুনে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব হামলায় নিহত ৪০, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ইরানের আলোচক হত্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল যুক্তরাষ্ট্র, শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা ট্রাম্পের ২২০ কোটি ডলারের ব্যক্তিগত আয়, নীরব ম্যাগা সমর্থকরা লালমনিরহাটে বজ্রপাতে ট্রান্সফরমার বিকল, চার দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ২২ হাজার গ্রাহক নাটকীয় জয়ে ক্রোয়েশিয়াকে বিদায়, স্পেনের মুখোমুখি পর্তুগাল খুলনায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে ৫০ জনের বেশি আ.লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস, টানা ৫১৯ মিনিট গোলহীন থাকার রেকর্ড জীবনের সবকিছু মাপতে গিয়ে কী আমরা সুখ হারাচ্ছি? রফতানিতে ধসের সংকেত, বন্ধ হচ্ছে কারখানা: বড় চাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ

এক সময় ধারণা করা হয়েছিল, ২১শ শতক হবে এশিয়ার ফুটবলের শতাব্দী। বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বাস এই মহাদেশে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ছিল দ্রুত। ফলে জনসংখ্যা, বাজার ও বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন, বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী পরাশক্তি হয়ে উঠবে এশিয়া। বিশেষ করে ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপের পর সেই প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়।

কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে বাস্তবতা ভিন্ন গল্প বলছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক এশীয় দল অংশ নিলেও নকআউট পর্বে তাদের উপস্থিতি হতাশাজনক। অন্যদিকে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সফল হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এশিয়ার ফুটবল কি সত্যিই বিশ্বজয়ের পথে এগোচ্ছে, নাকি এখনও সেই লক্ষ্য অনেক দূরে?

নেতৃত্বের মানই বড় পার্থক্য

জাপানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এশীয় ফুটবলের সীমাবদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত তিন দশকে দেশটি তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ করেছে, শক্তিশালী লিগ গড়েছে এবং ইউরোপে খেলা অসংখ্য মানসম্পন্ন ফুটবলার তৈরি করেছে। ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনও তাদের সাফল্যের প্রমাণ।

তবু বড় ম্যাচে একই দুর্বলতা ফিরে আসে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত, ম্যাচের গতি বুঝে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের চাপ সামলানোর মানসিক দৃঢ়তায় জাপান বারবার পিছিয়ে পড়ে। প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও সঠিক নেতৃত্বের অভাব তাদের সম্ভাবনাকে সীমিত করে রেখেছে।

বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি বিশ্বমানের কোচ তৈরিও সমান জরুরি। মাঠের বাইরে সেই প্রস্তুতি ছাড়া কেবল প্রতিভা দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ওঠা সম্ভব নয়।

মানসিকতার পরিবর্তনই পরবর্তী ধাপ

প্রযুক্তি, ফিটনেস কিংবা কৌশল—এসব এখন বিশ্ব ফুটবলে প্রায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পার্থক্য তৈরি করে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা।

অনেক এশীয় দল এখনও ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়ে। নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা করার পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সম্মান দেখানোর প্রবণতা তাদের খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বড় দলের বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস গড়ে তোলা ছাড়া এই মানসিক বাধা ভাঙা সম্ভব নয়।

প্রশাসনের দুর্বলতা উন্নয়নের বড় বাধা

দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, মাঠের বাইরের সংকটও একটি দলের সাফল্যকে প্রভাবিত করে। কোচ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ফুটবল উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

যখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সফল ফুটবল সংস্কৃতি গড়তে দক্ষ সংগঠন, জবাবদিহি এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

অর্থ দিয়ে ফুটবল সংস্কৃতি কেনা যায় না

পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। আন্তর্জাতিক তারকা ফুটবলার ও বিখ্যাত কোচদের আনা হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখনও বিশ্বমানের জাতীয় দল তৈরির নিশ্চয়তা দেয়নি।

একটি শক্তিশালী ফুটবল জাতি তৈরি হয় দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা খেলাধুলার সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক লিগ, দক্ষ প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে। অর্থ এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু তার বিকল্প হতে পারে না।

চীন ও ভারতের অপূর্ণ সম্ভাবনা

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ চীন ও ভারত এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। বিপুল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতিভা বিকাশের কাঠামো, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ঘাটতি স্পষ্ট।

বিশ্ব ফুটবলে বড় শক্তি হতে হলে শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতা নয়, ধারাবাহিক ক্রীড়া নীতিও প্রয়োজন। এই দুই দেশের অগ্রগতি ছাড়া এশিয়ার সামগ্রিক ফুটবল উন্নয়নের ছবিও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

আরও বড় মঞ্চ দরকার

২০০২ সালের বিশ্বকাপ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ভবিষ্যতেও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিয়মিত অংশ নিতে পারেনি। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন সেখানে ফুটবলের বিকাশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ইউরোপের সঙ্গে সংযোগের সুবিধা

আফ্রিকার অনেক দেশের সাফল্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক। অসংখ্য আফ্রিকান খেলোয়াড় ইউরোপের সেরা লিগে বেড়ে ওঠে বা ইউরোপে জন্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এর ফলে তারা সর্বোচ্চ মানের প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

এশিয়ার অনেক দেশের সেই সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। যদিও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বহু খেলোয়াড় ইউরোপে খেলছেন, তবু কোচ, প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং সামগ্রিক ফুটবল দর্শনে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার বিস্তার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

স্বপ্ন বেঁচে আছে, কিন্তু পথ এখনও দীর্ঘ

এশিয়ার ফুটবল নিঃসন্দেহে আগের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। অংশগ্রহণ বেড়েছে, অবকাঠামো উন্নত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু অর্থ, জনসংখ্যা বা প্রতিভা যথেষ্ট নয়।

সফল হতে হলে দরকার সাহসী নেতৃত্ব, দক্ষ প্রশাসন, বিশ্বমানের কোচ, আত্মবিশ্বাসী মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি। বর্তমান বাস্তবতা বলছে, এশিয়ার ফুটবল এগোচ্ছে ঠিকই, তবে যে “এশিয়ার শতাব্দী”র স্বপ্ন একসময় দেখা হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবে রূপ নিতে অনেক পথ বাকি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ

এশিয়ার ফুটবল বিপ্লব এখনো অসম্পূর্ণ

১১:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

এক সময় ধারণা করা হয়েছিল, ২১শ শতক হবে এশিয়ার ফুটবলের শতাব্দী। বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বাস এই মহাদেশে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ছিল দ্রুত। ফলে জনসংখ্যা, বাজার ও বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন, বিশ্ব ফুটবলের পরবর্তী পরাশক্তি হয়ে উঠবে এশিয়া। বিশেষ করে ২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপের পর সেই প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়।

কিন্তু দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে বাস্তবতা ভিন্ন গল্প বলছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে রেকর্ডসংখ্যক এশীয় দল অংশ নিলেও নকআউট পর্বে তাদের উপস্থিতি হতাশাজনক। অন্যদিকে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সফল হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এশিয়ার ফুটবল কি সত্যিই বিশ্বজয়ের পথে এগোচ্ছে, নাকি এখনও সেই লক্ষ্য অনেক দূরে?

নেতৃত্বের মানই বড় পার্থক্য

জাপানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এশীয় ফুটবলের সীমাবদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত তিন দশকে দেশটি তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ করেছে, শক্তিশালী লিগ গড়েছে এবং ইউরোপে খেলা অসংখ্য মানসম্পন্ন ফুটবলার তৈরি করেছে। ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনও তাদের সাফল্যের প্রমাণ।

তবু বড় ম্যাচে একই দুর্বলতা ফিরে আসে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত, ম্যাচের গতি বুঝে পরিবর্তন আনার সক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের চাপ সামলানোর মানসিক দৃঢ়তায় জাপান বারবার পিছিয়ে পড়ে। প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও সঠিক নেতৃত্বের অভাব তাদের সম্ভাবনাকে সীমিত করে রেখেছে।

বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরির পাশাপাশি বিশ্বমানের কোচ তৈরিও সমান জরুরি। মাঠের বাইরে সেই প্রস্তুতি ছাড়া কেবল প্রতিভা দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ওঠা সম্ভব নয়।

মানসিকতার পরিবর্তনই পরবর্তী ধাপ

প্রযুক্তি, ফিটনেস কিংবা কৌশল—এসব এখন বিশ্ব ফুটবলে প্রায় সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পার্থক্য তৈরি করে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা।

অনেক এশীয় দল এখনও ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলে অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে পড়ে। নিজেদের শক্তির ওপর ভরসা করার পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত সম্মান দেখানোর প্রবণতা তাদের খেলায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বড় দলের বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস গড়ে তোলা ছাড়া এই মানসিক বাধা ভাঙা সম্ভব নয়।

প্রশাসনের দুর্বলতা উন্নয়নের বড় বাধা

দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, মাঠের বাইরের সংকটও একটি দলের সাফল্যকে প্রভাবিত করে। কোচ নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ফুটবল উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

যখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সফল ফুটবল সংস্কৃতি গড়তে দক্ষ সংগঠন, জবাবদিহি এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।

অর্থ দিয়ে ফুটবল সংস্কৃতি কেনা যায় না

পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। আন্তর্জাতিক তারকা ফুটবলার ও বিখ্যাত কোচদের আনা হয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখনও বিশ্বমানের জাতীয় দল তৈরির নিশ্চয়তা দেয়নি।

একটি শক্তিশালী ফুটবল জাতি তৈরি হয় দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা খেলাধুলার সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক লিগ, দক্ষ প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং ধারাবাহিক প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে। অর্থ এই প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু তার বিকল্প হতে পারে না।

চীন ও ভারতের অপূর্ণ সম্ভাবনা

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুটি দেশ চীন ও ভারত এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। বিপুল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রতিভা বিকাশের কাঠামো, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ঘাটতি স্পষ্ট।

বিশ্ব ফুটবলে বড় শক্তি হতে হলে শুধু অর্থনৈতিক সক্ষমতা নয়, ধারাবাহিক ক্রীড়া নীতিও প্রয়োজন। এই দুই দেশের অগ্রগতি ছাড়া এশিয়ার সামগ্রিক ফুটবল উন্নয়নের ছবিও অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

আরও বড় মঞ্চ দরকার

২০০২ সালের বিশ্বকাপ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ভবিষ্যতেও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।

বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো এখনও বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিয়মিত অংশ নিতে পারেনি। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন সেখানে ফুটবলের বিকাশে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

ইউরোপের সঙ্গে সংযোগের সুবিধা

আফ্রিকার অনেক দেশের সাফল্যের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ইউরোপীয় ফুটবলের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক। অসংখ্য আফ্রিকান খেলোয়াড় ইউরোপের সেরা লিগে বেড়ে ওঠে বা ইউরোপে জন্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। এর ফলে তারা সর্বোচ্চ মানের প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

এশিয়ার অনেক দেশের সেই সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম। যদিও জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বহু খেলোয়াড় ইউরোপে খেলছেন, তবু কোচ, প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং সামগ্রিক ফুটবল দর্শনে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার বিস্তার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

স্বপ্ন বেঁচে আছে, কিন্তু পথ এখনও দীর্ঘ

এশিয়ার ফুটবল নিঃসন্দেহে আগের তুলনায় অনেক এগিয়েছে। অংশগ্রহণ বেড়েছে, অবকাঠামো উন্নত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু অর্থ, জনসংখ্যা বা প্রতিভা যথেষ্ট নয়।

সফল হতে হলে দরকার সাহসী নেতৃত্ব, দক্ষ প্রশাসন, বিশ্বমানের কোচ, আত্মবিশ্বাসী মানসিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি। বর্তমান বাস্তবতা বলছে, এশিয়ার ফুটবল এগোচ্ছে ঠিকই, তবে যে “এশিয়ার শতাব্দী”র স্বপ্ন একসময় দেখা হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবে রূপ নিতে অনেক পথ বাকি।