হুইলচেয়ার টেনিস আজ বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত প্যারা ক্রীড়া হলেও এর পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। উইম্বলডনে এ বছর হুইলচেয়ার টেনিসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফিরে দেখা হচ্ছে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
শুরুর দিনগুলোর কঠিন বাস্তবতা
১৯৮৫ সালের মিডওয়েস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দাঁড়িয়ে ব্র্যাড পার্কস প্রথম অনুভব করেছিলেন যে তাঁর স্বপ্ন বাস্তব হতে শুরু করেছে। একসময় যেখানে ম্যাচ পরিচালনার জন্য আম্পায়ার পাওয়া, কিংবা তৃতীয় সেটের জন্য নতুন বলের ব্যবস্থা করাও ছিল কঠিন, সেখানে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। খেলোয়াড়দের হাতে একাধিক র্যাকেট, কোচের উপস্থিতি, ঘুরে বেড়ানো আম্পায়ার এবং একসঙ্গে বহু কোর্টে প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে হুইলচেয়ার টেনিসও যে মূলধারার টেনিসেরই অংশ, সেই স্বীকৃতি দৃশ্যমান হতে শুরু করে।
পার্কসের ভাষায়, তাঁর লক্ষ্য ছিল খেলোয়াড়রা নিজেদের শুধু ‘হুইলচেয়ার অ্যাথলেট’ হিসেবে নয়, বরং একজন ‘টেনিস খেলোয়াড়’ হিসেবেই দেখুক।
দুর্ঘটনা থেকে নতুন ক্রীড়ার জন্ম
মাত্র ১৮ বছর বয়সে স্কিইং দুর্ঘটনায় কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় ব্র্যাড পার্কসের। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েই তিনি হুইলচেয়ারে বসে টেনিস খেলতে শুরু করেন। প্রথমদিকে তিনি হাসপাতালের হুইলচেয়ার ব্যবহার করেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন। পরে জেফ মিনেনব্রেকারের সহযোগিতায় দুই বাউন্সের নিয়ম এবং বিশেষভাবে তৈরি হুইলচেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারণা বাস্তবায়িত হয়। এই উদ্যোগই পরবর্তীকালে হুইলচেয়ার টেনিসকে একটি স্বতন্ত্র প্রতিযোগিতামূলক খেলায় পরিণত করে।
উইম্বলডনে স্বীকৃতির নতুন উচ্চতা
বর্তমানে উইম্বলডন হুইলচেয়ার টেনিস উদ্যাপনের অন্যতম বড় মঞ্চ। ব্রিটিশ তারকা আলফি হিউয়েট নিয়মিতই বিপুল দর্শকসমর্থন পান। গত বছর তিনি টানা চতুর্থবারের মতো উইম্বলডনের একক ফাইনালে খেলেছিলেন, যদিও শিরোপা জিতেছিলেন জাপানের তোকিতো ওদা।
ব্র্যাড পার্কসের মতে, উইম্বলডনের দর্শকসমর্থন অন্য অনেক গ্র্যান্ড স্ল্যামের তুলনায় অনেক বেশি। তবে তাঁর আশা, ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টেও হুইলচেয়ার টেনিস একই ধরনের জনপ্রিয়তা অর্জন করবে।
ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
পাঁচ দশকের যাত্রায় হুইলচেয়ার টেনিস শুধু নিয়ম ও অবকাঠামোর দিক থেকেই এগোয়নি, বদলেছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিও। একসময় যাদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও ছিল সীমিত, আজ তারা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টেনিস আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
উইম্বলডনে ৫০ বছর পূর্তির এই উদ্যাপন তাই শুধু একটি ক্রীড়ার ইতিহাস নয়; এটি সমান সুযোগ, অন্তর্ভুক্তি এবং অদম্য মানসিক শক্তিরও এক অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প।
হুইলচেয়ার টেনিসের ৫০ বছর পূর্তিতে উইম্বলডনে উঠে এসেছে ব্র্যাড পার্কসের সংগ্রাম, এই খেলার বিকাশ এবং বিশ্বমঞ্চে এর স্বীকৃতি পাওয়ার ইতিহাস।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















