ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রাকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিপুল জনসমাগম হয়েছে। সোমবারও হাজার হাজার মানুষ তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতেই নিহত হওয়া খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রদর্শনের পর এবার তা আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রায় বহন করা হচ্ছে।
বহু বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনিকে নিয়ে দেশজুড়ে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া ছিল। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন প্রভাবশালী ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক, অন্যদিকে সমালোচকদের কাছে তাঁর শাসন ছিল কঠোর ও কর্তৃত্ববাদী। তাঁর মৃত্যুর পরও সেই বিভক্ত মূল্যায়নের প্রতিফলন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেখা যাচ্ছে।
তেহরানে শেষযাত্রার আয়োজন

সোমবার রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঢল নামে। খামেনির মরদেহ শহরের মধ্য দিয়ে জনসম্মুখে শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
টানা তিন দিন ধরে রাজধানীতে শোক প্রকাশের কর্মসূচি চলার পর শেষযাত্রা ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ইরান ও ইরাকে সফর করবে মরদেহ
চলতি সপ্তাহে খামেনির মরদেহ ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নেওয়া হবে। এরপর তা প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোতেও নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই সফর শেষে খামেনিকে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদে দাফন করা হবে। ধর্মীয় ও প্রতীকী গুরুত্বের কারণে এই শহরকে তাঁর চূড়ান্ত সমাধিস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুদ্ধের সূচনায় নিহত হন খামেনি
চার মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের শুরুতেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়। বর্তমানে শেষ শ্রদ্ধা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরেই দেশটির প্রধান মনোযোগ কেন্দ্রীভূত রয়েছে।
তেহরানে টানা তৃতীয় দিনের শোক সমাবেশ এবং পরবর্তী কয়েক দিনের শেষযাত্রার কর্মসূচি ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জাতীয় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















