বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক জমজমাট লড়াই। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার বড় চ্যালেঞ্জ নরওয়ে। একদিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্লিং হালান্ড, অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণের প্রধান ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুই তারকার লড়াইকে ঘিরেই বাড়ছে উত্তেজনা।
হালান্ডের ওপর নরওয়ের বড় ভরসা
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রেখেছেন আর্লিং হালান্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল করে দলকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় এনে দেন তিনি। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তাঁর পঞ্চম গোল।
প্রায় তিন দশক পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা নরওয়ে এবার আরও বড় স্বপ্ন দেখছে। তাদের লক্ষ্য ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। যদিও হালান্ড নিজেই স্বীকার করেছেন, ব্রাজিলকে হারানো সহজ হবে না। তবুও অতীতের পরিসংখ্যান নরওয়েকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। দুই দলের আগের চার দেখায় নরওয়ে কখনও ব্রাজিলের কাছে হারেনি। দুটি ম্যাচ জিতেছে এবং দুটি ড্র করেছে।

আত্মবিশ্বাসী কোচ, জয়ের লক্ষ্যই একমাত্র
নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন মনে করেন, ব্রাজিলই এই ম্যাচের ফেবারিট। তবে তাঁর দল শুধু অংশ নিতে নয়, জিততেই মাঠে নামবে।
সোলবাকেনের বিশ্বাস, বিশ্বের সেরা গোলদাতাদের একজনকে দলে পাওয়া তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ১৩ ম্যাচে গোল করেছেন হালান্ড। এই সময়ে তাঁর গোলসংখ্যা ২৫। নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও বলেছেন, হালান্ডকে যত বেশি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যাবে, দলের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
ব্রাজিলের ভরসা ভিনিসিয়ুস
অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণের মূল অস্ত্র ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চলতি বিশ্বকাপে চার গোল করে তিনি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে তিনি বিশেষ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ফলে নরওয়ের রক্ষণভাগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে তাঁকে সামলানো।
সোলবাকেন মজার ছলে বলেছেন, ভিনিসিয়ুসকে থামাতে হলে যেন সাত ডিফেন্ডার নিয়ে খেলতে হবে। যদিও তিনি জানিয়েছেন, বাস্তবে দল নিজেদের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করবে।
নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নাইল্যান্ডও মনে করেন, ভিনিসিয়ুসকে থামানো কঠিন হলেও সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে যে কোনো প্রতিপক্ষকে আটকানো সম্ভব।

ব্রাজিলের লক্ষ্য পুরোনো বাধা ভাঙা
ব্রাজিলও এই ম্যাচকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগের নকআউট ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে জাপানকে হারিয়ে তারা এগিয়ে এসেছে। সেই ম্যাচে বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছিল বলে জানিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি।
তবে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে নকআউট পর্বে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে ব্রাজিলের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। সেই হতাশার অধ্যায় এবার শেষ করতে চায় দলটি।
হালান্ডকে ঘিরেই নয় পুরো নরওয়েকে নিয়ে ভাবনা
ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনহা বলেছেন, শুধু হালান্ডকে থামানোর পরিকল্পনা করলেই হবে না। নরওয়ের পুরো দলই শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক। তাই প্রতিটি খেলোয়াড়ের দিকেই সমান নজর রাখতে হবে।
দলের চোট পরিস্থিতিতেও কিছু পরিবর্তন রয়েছে। লুকাস পাকেতা হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে খেলতে পারবেন না। তবে রাফিনিয়া অনুশীলনে ফিরেছেন এবং ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচে দুই দলের আক্রমণভাগের তারকাদের পারফরম্যান্সই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণে নরওয়ে ও ব্রাজিল—দুই দলই তাই সর্বশক্তি নিয়েই মাঠে নামবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















