০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
সামরিক ভাষার নীরব বিস্তার: ভদ্রতার আড়ালে বদলে যাচ্ছে নাগরিক সংস্কৃতি ট্রাম্পের বড় ইঙ্গিত: সাত বছর পর তুরস্কের জন্য আবারও খুলতে পারে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল তেহরান ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন বন্দি: আসক অ্যাংলো-স্যাক্সনদের উত্থানঃ ব্রিটিশ জাতিগোষ্টি ও তাদের রাষ্ট্র শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪; ঘটনার তদন্তে পুলিশ কুষ্টিয়ায় ব্রাজিল সমর্থকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০ বছর: যেভাবে দীর্ঘ সংঘাতের পর জন্ম নিল যুক্তরাষ্ট্র আপডেটেড দৃষ্টিতে আলেকজান্ডার: বিজেতার গৌরবের আড়ালে উঠে এলো নির্মম বাস্তবতা

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন বন্দি: আসক

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারা হেফাজতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন বন্দি এবং ২৪ জন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে। আসকের এ তথ্য কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আসকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে মোট ৩৬ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ১৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আটটি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে সাতজন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

অজ্ঞাতনামা লাশ আর কারা হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পাঁচজন করে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এই দুই বিভাগেই মৃতদের মধ্যে চারজন ছিলেন বিচারাধীন এবং একজন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত। বরিশাল বিভাগে দুইজন, রংপুর বিভাগে দুইজন এবং সিলেট বিভাগে একজন বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

জাতীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তথ্য

আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে তারা কারা হেফাজতে মৃত্যুসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্য সংকলন করে। প্রতি মাসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগঠনটি মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, যেখানে কারা হেফাজতে মৃত্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বিচারাধীন বন্দিদের মৃত্যু কেন উদ্বেগের

কারা হেফাজতে নভেম্বরে ১১ জনের মৃত্যু: এমএসএফ

ছয় মাসে কারা হেফাজতে হওয়া মোট ৬১টি মৃত্যুর মধ্যে ৩৭ জনই ছিলেন বিচারাধীন বন্দি। অর্থাৎ তারা এখনো আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি। এই উচ্চ হার বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা, কারাগারের পরিবেশ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা।

বাংলাদেশের কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দির চাপ বহন করছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কারা ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের এই পরিসংখ্যান কারা ব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে আবারও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কারাগারে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক ভাষার নীরব বিস্তার: ভদ্রতার আড়ালে বদলে যাচ্ছে নাগরিক সংস্কৃতি

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন বন্দি: আসক

০১:০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারা হেফাজতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটির সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন বন্দি এবং ২৪ জন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে বিচারাধীন বন্দিদের মধ্যে। আসকের এ তথ্য কারাগারে বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আসকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে মোট ৩৬ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন ছিলেন বিচারাধীন এবং ১৯ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আটটি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে সাতজন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

অজ্ঞাতনামা লাশ আর কারা হেফাজতে মৃত্যু বেড়েছে

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পাঁচজন করে বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এই দুই বিভাগেই মৃতদের মধ্যে চারজন ছিলেন বিচারাধীন এবং একজন ছিলেন দণ্ডপ্রাপ্ত। বরিশাল বিভাগে দুইজন, রংপুর বিভাগে দুইজন এবং সিলেট বিভাগে একজন বিচারাধীন বন্দির মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন বিচারাধীন এবং একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ছিলেন।

জাতীয় পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তথ্য

আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে তারা কারা হেফাজতে মৃত্যুসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্য সংকলন করে। প্রতি মাসে এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর সংগঠনটি মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে, যেখানে কারা হেফাজতে মৃত্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বিচারাধীন বন্দিদের মৃত্যু কেন উদ্বেগের

কারা হেফাজতে নভেম্বরে ১১ জনের মৃত্যু: এমএসএফ

ছয় মাসে কারা হেফাজতে হওয়া মোট ৬১টি মৃত্যুর মধ্যে ৩৭ জনই ছিলেন বিচারাধীন বন্দি। অর্থাৎ তারা এখনো আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি। এই উচ্চ হার বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা, কারাগারের পরিবেশ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা।

বাংলাদেশের কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দির চাপ বহন করছে। এ কারণে স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পরিচ্ছন্নতা এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন বন্দিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কারা ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের এই পরিসংখ্যান কারা ব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে আবারও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কারাগারে প্রতিটি মৃত্যুর কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।