০১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিখাইলো দ্রাপাতি ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, মোদির কঠোর বার্তার পরও রাজপথে হাজারো তরুণ আজব প্রযুক্তিতে বাতাস থেকেই পানি, আবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ কুবোটার       ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে জাপানে তীব্র তাপপ্রবাহ, ‘ভয়াবহ গরমের দিন’ ঘোষণা ককরোচ পার্টির আন্দোলন কি মোদী সরকারের জন্য ‘বিপদঘণ্টা’? ‘ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখি- কেউ মনে হয় আমাকে আগুনে ফেলে দিচ্ছে’ প্রাচীন ইরানি অলংকার পরে বিতর্কে জেনডায়া, উঠেছে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্ন দাঁত ঘষার অভ্যাস থেকে মুক্তির সহজ উপায়, মুখের স্বাস্থ্যে নতুন সচেতনতা ‘দ্য ওডিসি’র জন্য ম্যাট ডেমনের গ্রিক দেবতার মতো শরীর গঠনের কঠিন প্রস্তুতি এলা ল্যাংলির গান ইতিহাসের পাতায়, ১৪ সপ্তাহ শীর্ষে থেকে গড়ল নতুন রেকর্ড

মাছের জিন গবেষণায় নতুন দিগন্ত, উন্নত চাষে বদলাচ্ছে জলজ খাদ্যের ভবিষ্যৎ

মাছের জিন নিয়ে গবেষণা মানেই কোনো ‘দানব মাছ’ তৈরি করা নয়। বরং বিজ্ঞানীরা এমন প্রজাতি ও বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যা মাছকে আরও দ্রুত বেড়ে উঠতে, রোগ প্রতিরোধে সক্ষম হতে এবং খামারিদের জন্য লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। আধুনিক জলজ চাষে জিনভিত্তিক গবেষণা এখন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

নির্বাচিত প্রজননে বাড়ছে উৎপাদন

গবেষকদের মতে, একটি মাছের ভালো বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচিত প্রজনন অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। যেমন লম্বা বাবা-মায়ের সন্তানদের লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তেমনি দ্রুত বেড়ে ওঠা বা ভালো বৈশিষ্ট্যের মাছ থেকেও উন্নত প্রজন্ম তৈরি করা সম্ভব। ধারাবাহিকভাবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং চাষ আরও লাভজনক হয়।

ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকেরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। আগে যে লাল স্ন্যাপার মাছকে এক ধরনের প্রজাতি বলে মনে করা হতো, পরীক্ষায় দেখা গেছে সেগুলোর বড় অংশই আসলে অন্য একটি স্থানীয় প্রজাতির। এই তথ্য ভবিষ্যতের চাষ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

I don't create 'monster' fish | The Straits Times - newspaper - Read this  story on Magzter.com

নতুন প্রজাতির চাষে রয়েছে চ্যালেঞ্জ

লাল স্ন্যাপার চাষে সম্ভাবনা থাকলেও এটি সহজ নয়। এই মাছ বাজারজাত করার উপযোগী আকারে পৌঁছাতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। তুলনামূলকভাবে অনেক জনপ্রিয় মাছ এর চেয়ে অনেক কম সময়ে বড় হয়ে যায়।

এ ছাড়া লাল স্ন্যাপার স্বভাবগতভাবে আক্রমণাত্মক। বড় মাছ ছোট মাছকে আক্রমণ করে, এমনকি অনেক সময় গুরুতর ক্ষতিও করে। ফলে এই প্রজাতির চাষে খামারিদের বাড়তি সতর্কতা ও ব্যয় প্রয়োজন হয়। এসব কারণে অনেক খামারি এখনও তুলনামূলক সহজে পালনযোগ্য মাছকেই অগ্রাধিকার দেন।

গবেষণার লক্ষ্য লাভজনক চাষ

বিজ্ঞানীরা এখন এই মাছের বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাস ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করছেন। লক্ষ্য হলো এমন পদ্ধতি তৈরি করা, যাতে মাছ দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন খরচ কমে এবং খামারিরা বেশি লাভ পান। গবেষকদের বিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত চাষ ভবিষ্যতে জলজ খাদ্য উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণাগার থেকে খামার পর্যন্ত

I don't create monster fish': Her DNA quest for fast-growing snapper | The  Straits Times

মাছ নিয়ে গবেষণার বড় অংশই খামারে গিয়ে করতে হয়। গবেষণা দল নিয়মিত বিভিন্ন খামারে গিয়ে শত শত মাছের ওজন, দৈর্ঘ্য, রঙ ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ছোট নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

এই কাজের জন্য গবেষকদের দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়। খামারিদের সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা শুধু তথ্য সংগ্রহই করেন না, খামারিদের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও সহযোগিতা করেন।

পুষ্টিগুণেও এগিয়ে কিছু মাছ

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লাল স্ন্যাপারে কিছু জনপ্রিয় চাষযোগ্য মাছের তুলনায় সামান্য বেশি প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি এতে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ফলে সঠিকভাবে উৎপাদন করা গেলে এই মাছ বাজারে আলাদা মূল্য পেতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেশা

জলজ চাষ ও জিন গবেষণাকে এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ বাড়ছে। তবে এই পেশায় সফল হতে হলে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং গবেষণার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ থাকা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের মাছ উৎপাদন সম্ভব হলে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জলজ চাষ শিল্পও আরও টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠবে।

Practices for Drawing Blood Samples from Teleost Fish - Duman - 2019 -  North American Journal of Aquaculture - Wiley Online Library

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে বড় রদবদল, নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মিখাইলো দ্রাপাতি

মাছের জিন গবেষণায় নতুন দিগন্ত, উন্নত চাষে বদলাচ্ছে জলজ খাদ্যের ভবিষ্যৎ

১২:৩৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মাছের জিন নিয়ে গবেষণা মানেই কোনো ‘দানব মাছ’ তৈরি করা নয়। বরং বিজ্ঞানীরা এমন প্রজাতি ও বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যা মাছকে আরও দ্রুত বেড়ে উঠতে, রোগ প্রতিরোধে সক্ষম হতে এবং খামারিদের জন্য লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। আধুনিক জলজ চাষে জিনভিত্তিক গবেষণা এখন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

নির্বাচিত প্রজননে বাড়ছে উৎপাদন

গবেষকদের মতে, একটি মাছের ভালো বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচিত প্রজনন অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। যেমন লম্বা বাবা-মায়ের সন্তানদের লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, তেমনি দ্রুত বেড়ে ওঠা বা ভালো বৈশিষ্ট্যের মাছ থেকেও উন্নত প্রজন্ম তৈরি করা সম্ভব। ধারাবাহিকভাবে এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং চাষ আরও লাভজনক হয়।

ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গবেষকেরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। আগে যে লাল স্ন্যাপার মাছকে এক ধরনের প্রজাতি বলে মনে করা হতো, পরীক্ষায় দেখা গেছে সেগুলোর বড় অংশই আসলে অন্য একটি স্থানীয় প্রজাতির। এই তথ্য ভবিষ্যতের চাষ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

I don't create 'monster' fish | The Straits Times - newspaper - Read this  story on Magzter.com

নতুন প্রজাতির চাষে রয়েছে চ্যালেঞ্জ

লাল স্ন্যাপার চাষে সম্ভাবনা থাকলেও এটি সহজ নয়। এই মাছ বাজারজাত করার উপযোগী আকারে পৌঁছাতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। তুলনামূলকভাবে অনেক জনপ্রিয় মাছ এর চেয়ে অনেক কম সময়ে বড় হয়ে যায়।

এ ছাড়া লাল স্ন্যাপার স্বভাবগতভাবে আক্রমণাত্মক। বড় মাছ ছোট মাছকে আক্রমণ করে, এমনকি অনেক সময় গুরুতর ক্ষতিও করে। ফলে এই প্রজাতির চাষে খামারিদের বাড়তি সতর্কতা ও ব্যয় প্রয়োজন হয়। এসব কারণে অনেক খামারি এখনও তুলনামূলক সহজে পালনযোগ্য মাছকেই অগ্রাধিকার দেন।

গবেষণার লক্ষ্য লাভজনক চাষ

বিজ্ঞানীরা এখন এই মাছের বৃদ্ধি, খাদ্যাভ্যাস ও জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করছেন। লক্ষ্য হলো এমন পদ্ধতি তৈরি করা, যাতে মাছ দ্রুত বড় হয়, উৎপাদন খরচ কমে এবং খামারিরা বেশি লাভ পান। গবেষকদের বিশ্বাস, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত চাষ ভবিষ্যতে জলজ খাদ্য উৎপাদনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণাগার থেকে খামার পর্যন্ত

I don't create monster fish': Her DNA quest for fast-growing snapper | The  Straits Times

মাছ নিয়ে গবেষণার বড় অংশই খামারে গিয়ে করতে হয়। গবেষণা দল নিয়মিত বিভিন্ন খামারে গিয়ে শত শত মাছের ওজন, দৈর্ঘ্য, রঙ ও শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ছোট নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

এই কাজের জন্য গবেষকদের দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়। খামারিদের সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা শুধু তথ্য সংগ্রহই করেন না, খামারিদের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও সহযোগিতা করেন।

পুষ্টিগুণেও এগিয়ে কিছু মাছ

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লাল স্ন্যাপারে কিছু জনপ্রিয় চাষযোগ্য মাছের তুলনায় সামান্য বেশি প্রোটিন রয়েছে। পাশাপাশি এতে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি। ফলে সঠিকভাবে উৎপাদন করা গেলে এই মাছ বাজারে আলাদা মূল্য পেতে পারে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেশা

জলজ চাষ ও জিন গবেষণাকে এখন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ বাড়ছে। তবে এই পেশায় সফল হতে হলে ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং গবেষণার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ থাকা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে উন্নত জাতের মাছ উৎপাদন সম্ভব হলে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি জলজ চাষ শিল্পও আরও টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠবে।

Practices for Drawing Blood Samples from Teleost Fish - Duman - 2019 -  North American Journal of Aquaculture - Wiley Online Library