একটি শিশুর জন্মদিনের কেক তৈরির অনুরোধ থেকেই শুরু হয়েছিল যাত্রা। খাদ্য-অ্যালার্জিতে ভোগা শিশুদের জন্য নিরাপদ, সুস্বাদু এবং সবার জন্য উপযোগী খাবার তৈরির সেই উদ্যোগ এখন আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। নিরামিষ, অ্যালার্জেনমুক্ত ও হালাল বিস্কুট উৎপাদনকারী একটি ব্র্যান্ড এবার জাপানের শতাধিক খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্য সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও প্রবেশের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায়
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা জেন ট্যান জানান, নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে তাদের পণ্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব ও অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হচ্ছে। এবার লক্ষ্য আরও বড় আন্তর্জাতিক বাজার।
জাপানে বিস্কুট ও অন্যান্য বেকারি পণ্য বাজারজাত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয়ব্যবস্থা ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পণ্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ প্রকাশ না করা হলেও এটি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বলে জানা গেছে।
একটি শিশুর কষ্ট থেকেই অনুপ্রেরণা
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন গল্প। প্রতিষ্ঠাতার ধর্মকন্যা একাধিক খাদ্য-অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ায় সাধারণ জন্মদিনের কেকও খেতে পারত না। একবার তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি কেক স্বাদে ভালো না হওয়ায় সহপাঠীদের মন্তব্যে শিশুটি কষ্ট পায়।
সেই ঘটনাই জেন ট্যানকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করে। তিনি প্রায় নয় মাস গবেষণা করে এমন একটি চকোলেট কেক তৈরি করেন, যেখানে প্রচলিত উপকরণের পরিবর্তে বিকল্প নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্য ছিল এমন একটি কেক তৈরি করা, যা শুধু অ্যালার্জিতে আক্রান্ত শিশু নয়, সবাই আনন্দের সঙ্গে খেতে পারবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনের পথচলা
প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই এমন পরিবেশে উৎপাদন করেছে, যেখানে অ্যালার্জেন দূষণের ঝুঁকি নেই। তবে পথ সহজ ছিল না। মহামারির সময় এক পর্যায়ে কেকের মান হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়। পরে জানা যায়, কাঁচামালের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সংমিশ্রণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেছিল।
এরপর দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের বিশেষ ময়দার মিশ্রণ তৈরি করা হয়। বর্তমানে ভুট্টা, ট্যাপিওকা, চাল ও আলুর ময়দার বিশেষ সংমিশ্রণ ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

বিস্কুটই এখন মূল শক্তি
শুরুর দিকে কেক দিয়েই যাত্রা শুরু হলেও পরে বিস্কুট যুক্ত হওয়ার পর ব্যবসার চিত্র বদলে যায়। বর্তমানে মোট উৎপাদনের বড় অংশই বিস্কুট। পাশাপাশি ব্রাউনি, গ্র্যানোলা ও ক্র্যাকারসহ নতুন পণ্য আনার কাজও চলছে।
ছোট একটি কর্মীদল নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। নতুন নতুন স্বাদ ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উন্নয়নের দায়িত্বও নিজেই সামলাচ্ছেন প্রতিষ্ঠাতা।
বিশ্ববাজারে বাড়ছে চাহিদা
স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তা এবং একাধিক খাদ্য-অ্যালার্জিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের পণ্যের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে একটি উপাদানমুক্ত খাবার পাওয়া গেলেও তাতে অন্য অ্যালার্জেন থেকে যায়। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একসঙ্গে একাধিক খাদ্যসংবেদনশীল মানুষের জন্য নিরাপদ পণ্য তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
প্রতিষ্ঠাতার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ফলে নতুন বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে এবং বিশ্বজুড়ে নিরাপদ, সুস্বাদু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ আরও প্রশস্ত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















