স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। রোববার ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে কঠিন লড়াইয়ের পর এই জয় তুলে নেয় থমাস টুখেলের দল। এক পর্যায়ে ১০ জন নিয়ে আধা ঘণ্টারও বেশি সময় খেলেও জয় ধরে রাখে ইংল্যান্ড।
এ জয়ের ফলে আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
জুড বেলিংহামের জোড়া গোল
ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে হেড থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। মাত্র ৯৮ সেকেন্ড পর হ্যারি কেনের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। এতে ৮০ হাজারের বেশি দর্শকে ভরা এস্তাদিও আজতেকা মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়।
তবে বিরতির আগে ৪২তম মিনিটে হুলিয়ান কিনিওনেস গোল করে মেক্সিকোকে ম্যাচে ফেরান।

১০ জন নিয়েও দারুণ লড়াই
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।
তবে ৬০তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতরে ইংল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করেন মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেল। স্পট কিক থেকে গোল করে ব্যবধান আবারও দুই গোলে নিয়ে যান অধিনায়ক হ্যারি কেন।
এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে কেনের ষষ্ঠ গোল এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাঁর ১৪তম গোল। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের সমান উচ্চতায় পৌঁছান। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তাঁর সামনে এখন রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও এরলিং হলান্ড।
শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে জয়
ম্যাচের শেষদিকে কেনের করা ফাউলে মেক্সিকো পেনাল্টি পায় এবং রাউল হিমেনেস গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন। এরপর শেষ ২১ মিনিট এবং যোগ করা ১১ মিনিটে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা।
তবে গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড এবং ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে সব আক্রমণ প্রতিহত করে স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে।

টুখেল বলেন, উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলা সহজ নয়। কিন্তু তাঁর খেলোয়াড়রা দল ও দেশের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং প্রতিটি বাধা অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে বেলিংহাম বলেন, এটি তাঁর ইংল্যান্ড ক্যারিয়ারের সেরা রাত এবং সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় জয়।
হেন্ডারসনের চোট, মেক্সিকোর আক্ষেপ
জয়ের আনন্দের মধ্যেও দুঃসংবাদ পেয়েছে ইংল্যান্ড। উদ্যাপনের সময় বিজ্ঞাপনী বোর্ডের ওপর পড়ে গিয়ে কবজিতে চোট পান মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কোচ টুখেল জানান, চোটটি গুরুতর হতে পারে।
অন্যদিকে মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগিরে বলেন, এভাবে স্বপ্নভঙ্গ হওয়া খুবই কষ্টের। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়রা মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছে, কিন্তু দিনটি তাদের ছিল না।
১৯৮৬ সালে নিজ দেশে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর আর কখনও শেষ আটে যেতে পারেনি মেক্সিকো। এবারও শেষ ষোলোর বাধা পেরোনো হলো না।
ইংল্যান্ডের লক্ষ্য এখন ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়। সেই স্বপ্নের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে গেল টুখেলের দল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















