০৪:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
অর্থনীতি ব্যর্থ হলে জনপ্রিয়তা টেকে না সামরিক ভাষার নীরব বিস্তার: ভদ্রতার আড়ালে বদলে যাচ্ছে নাগরিক সংস্কৃতি ট্রাম্পের বড় ইঙ্গিত: সাত বছর পর তুরস্কের জন্য আবারও খুলতে পারে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল তেহরান ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন বন্দি: আসক অ্যাংলো-স্যাক্সনদের উত্থানঃ ব্রিটিশ জাতিগোষ্টি ও তাদের রাষ্ট্র শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪; ঘটনার তদন্তে পুলিশ কুষ্টিয়ায় ব্রাজিল সমর্থকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০ বছর: যেভাবে দীর্ঘ সংঘাতের পর জন্ম নিল যুক্তরাষ্ট্র

পর্দার দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার আনন্দ, পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণ এবং কমে আসা মনোযোগের সময়—সব মিলিয়ে বই পড়ার অভ্যাস বিশ্বজুড়েই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। একসময় অবসর কাটানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বই, কিন্তু এখন অনেকেই কাজ বা পড়াশোনার প্রয়োজন ছাড়া বই হাতে তোলেন না। ফলে আনন্দের জন্য পড়ার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

পড়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন

অনেকের জীবনেই এমন সময় ছিল, যখন উপন্যাস, গল্প, ভ্রমণকাহিনি কিংবা ইতিহাসের বই ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা দখল করেছে ভিডিওভিত্তিক বিনোদন ও দ্রুত বদলে যাওয়া অনলাইন কনটেন্ট। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। এখন অনেকেই কয়েক মিনিটের বেশি একটি লেখা পড়তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

স্থানীয় সাহিত্যকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ

The Lost Art of Reading: Why We Struggle to Finish Books in the Digital Age | by Vignesh Jagadeesan | Write A Catalyst | Medium

অনেক পাঠকের মধ্যেই স্থানীয় সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অনাগ্রহ কাজ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন প্রজন্মের লেখকদের বিভিন্ন গল্প, নাটক ও গ্রাফিক উপন্যাস পড়ে অনেকেই উপলব্ধি করছেন, নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে ঘিরে তৈরি সাহিত্যও আন্তর্জাতিক মানের হতে পারে। এই উপলব্ধি স্থানীয় সাহিত্যকে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

সংখ্যা যা বলছে

জরিপে দেখা যায়, অনেক মানুষ নিয়মিত কিছু না কিছু পড়লেও তার বড় অংশই কাজ, পড়াশোনা বা প্রয়োজনভিত্তিক। আনন্দের জন্য বই পড়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ পড়ার অভ্যাস পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, তবে পড়ার উদ্দেশ্য বদলে গেছে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও গভীর চিন্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মনোযোগের সংকট বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দ্রুতগতির কনটেন্ট মানুষের মনোযোগের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ছোট ছোট ভিডিও, তাৎক্ষণিক বিনোদন এবং দ্রুত তথ্য গ্রহণের অভ্যাসের কারণে দীর্ঘ লেখা পড়া অনেকের কাছেই কঠিন মনে হচ্ছে। এর ফলে বই পড়ার মতো ধৈর্যনির্ভর অভ্যাস আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

Reading is becoming a lost art. Not because books disappeared, but because attention did. Even as someone who reads constantly, I find myself having to reread pages when I go back to

অভ্যাস ফিরিয়ে আনার পথ

পড়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে শুধু বিভিন্ন কর্মসূচি বা উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যক্তিগত আগ্রহ ও নিয়মিত চর্চা। প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, নিজের পছন্দের বিষয় দিয়ে শুরু করা এবং মোবাইল বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম থেকে কিছুটা সময় দূরে থাকা এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। পড়ার আনন্দ একবার ফিরে এলে সেটিই ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বই শুধু তথ্যের উৎস নয়, এটি চিন্তা, কল্পনা ও আত্ম-অন্বেষণেরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাই প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থনীতি ব্যর্থ হলে জনপ্রিয়তা টেকে না

পর্দার দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার আনন্দ, পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

১২:২৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ডিজিটাল বিনোদনের বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকর্ষণ এবং কমে আসা মনোযোগের সময়—সব মিলিয়ে বই পড়ার অভ্যাস বিশ্বজুড়েই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। একসময় অবসর কাটানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বই, কিন্তু এখন অনেকেই কাজ বা পড়াশোনার প্রয়োজন ছাড়া বই হাতে তোলেন না। ফলে আনন্দের জন্য পড়ার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

পড়ার অভ্যাসে বড় পরিবর্তন

অনেকের জীবনেই এমন সময় ছিল, যখন উপন্যাস, গল্প, ভ্রমণকাহিনি কিংবা ইতিহাসের বই ছিল প্রতিদিনের সঙ্গী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই জায়গা দখল করেছে ভিডিওভিত্তিক বিনোদন ও দ্রুত বদলে যাওয়া অনলাইন কনটেন্ট। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মনোযোগ দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। এখন অনেকেই কয়েক মিনিটের বেশি একটি লেখা পড়তে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

স্থানীয় সাহিত্যকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ

The Lost Art of Reading: Why We Struggle to Finish Books in the Digital Age | by Vignesh Jagadeesan | Write A Catalyst | Medium

অনেক পাঠকের মধ্যেই স্থানীয় সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের অনাগ্রহ কাজ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন প্রজন্মের লেখকদের বিভিন্ন গল্প, নাটক ও গ্রাফিক উপন্যাস পড়ে অনেকেই উপলব্ধি করছেন, নিজস্ব সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে ঘিরে তৈরি সাহিত্যও আন্তর্জাতিক মানের হতে পারে। এই উপলব্ধি স্থানীয় সাহিত্যকে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

সংখ্যা যা বলছে

জরিপে দেখা যায়, অনেক মানুষ নিয়মিত কিছু না কিছু পড়লেও তার বড় অংশই কাজ, পড়াশোনা বা প্রয়োজনভিত্তিক। আনন্দের জন্য বই পড়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ পড়ার অভ্যাস পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, তবে পড়ার উদ্দেশ্য বদলে গেছে। এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও গভীর চিন্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মনোযোগের সংকট বাড়ছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের দ্রুতগতির কনটেন্ট মানুষের মনোযোগের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। ছোট ছোট ভিডিও, তাৎক্ষণিক বিনোদন এবং দ্রুত তথ্য গ্রহণের অভ্যাসের কারণে দীর্ঘ লেখা পড়া অনেকের কাছেই কঠিন মনে হচ্ছে। এর ফলে বই পড়ার মতো ধৈর্যনির্ভর অভ্যাস আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

Reading is becoming a lost art. Not because books disappeared, but because attention did. Even as someone who reads constantly, I find myself having to reread pages when I go back to

অভ্যাস ফিরিয়ে আনার পথ

পড়ার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে শুধু বিভিন্ন কর্মসূচি বা উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যক্তিগত আগ্রহ ও নিয়মিত চর্চা। প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, নিজের পছন্দের বিষয় দিয়ে শুরু করা এবং মোবাইল বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম থেকে কিছুটা সময় দূরে থাকা এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। পড়ার আনন্দ একবার ফিরে এলে সেটিই ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত বই শুধু তথ্যের উৎস নয়, এটি চিন্তা, কল্পনা ও আত্ম-অন্বেষণেরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তাই প্রযুক্তিনির্ভর সময়েও বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।