একসময় ইউরোপে শীতের তুষারপাতের কারণে স্কুল বন্ধ হওয়া ছিল পরিচিত ঘটনা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দেখা দিচ্ছে নতুন বাস্তবতা—‘সান ডে’। অর্থাৎ অতিরিক্ত গরমের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আনতে হচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
চলতি গ্রীষ্মের শুরুতেই ইউরোপের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠে যায়। ফ্রান্স ও স্পেনের কিছু অঞ্চলে পারদ ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটও অতিক্রম করে। বিশ্বের অনেক উষ্ণ অঞ্চলে এমন তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলেও ইউরোপের অধিকাংশ দেশের জন্য এটি অস্বাভাবিক এবং কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
গরমে স্কুল বন্ধ, ক্লাসের সময়ও কমানো
তীব্র গরমের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থায়। ফ্রান্সে প্রায় ৮৪৫টি স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আরও হাজারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাসের সময় কমিয়ে আনা হয়েছে, কারণ পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় শ্রেণিকক্ষগুলো অসহনীয় গরম হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্যেরও কয়েকটি স্কুল স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে অথবা পাঠদানের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাইরে না গিয়ে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে।
জনজীবনে তাপপ্রবাহের প্রভাব
প্রবল তাপদাহ শুধু স্কুলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে। অতিরিক্ত তাপের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে এবং প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে নানা ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
ফ্রান্সে শীতল পরিবেশের বিশেষ কক্ষ এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসে মানুষ যেন রাতে কিছুটা স্বস্তি পায়, সে জন্য বেশ কয়েকটি পার্ক রাতভর খোলা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের পর্যাপ্ত পানি পান, দুপুরের প্রচণ্ড রোদ এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
উৎসবেও নতুন নিয়ম
তীব্র গরমের কারণে জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফ্রান্সের বার্ষিক সংগীত উৎসবসহ ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি আয়োজনে অ্যালকোহল সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত ভিড় এবং মদ্যপান একসঙ্গে জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বদলে যাচ্ছে ইউরোপের বাস্তবতা
বিশ্বের কিছু উষ্ণ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই এমন তাপমাত্রার সঙ্গে মানুষ অভ্যস্ত। কিন্তু ইউরোপের অনেক দেশে এখনও পর্যাপ্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা তাপপ্রবাহ মোকাবিলার অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিটি তাপপ্রবাহই সেখানে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। তাই ইউরোপের দেশগুলোকে শুধু জরুরি ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও গ্রহণ করতে হবে, যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনজীবনে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।
![]()
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















