০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
রোবটের ‘বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত’ এখনই নয়, আরও কয়েক বছর লাগবে: ইউনিট্রির পূর্বাভাস ব্রিটিশ স্টিল নিয়ে চীন-যুক্তরাজ্য উত্তেজনা, নতুন প্রধানমন্ত্রী বার্নহামের সামনে বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা তাইওয়ানের মহাকাশে বড় উড়ান, নিজস্ব উপগ্রহ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা এশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ অঙ্গীকারের বার্তা, আসিয়ান বৈঠকে আশ্বাস রুবিওর চীনের রপ্তানি কড়াকড়িতে বাড়ল মালয়েশিয়া প্রকল্পের ব্যয়, বিরল খনিজ বাজারে নতুন চাপ ভারতে পাচার হয়ে ভিয়েতনামে পৌঁছানো হীরা কাণ্ডে তোলপাড়, আস্থার সংকটে বাজার ইরান উত্তেজনায় রেকর্ড দরপতন, চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থানে জাপানের ইয়েন লোহিত নদীর বাঁধে বিলুপ্তির শঙ্কায় বিশ্বের বিরলতম বক, বিপদের মুখে সাদা-পেট বকের শেষ আশ্রয় ভারতের জ্বালানি রূপান্তরের বড় ভরসা পরিচ্ছন্ন শক্তি, বলছে রাষ্ট্রসংঘ কর্ণাটকে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের অভিযোগে তল্লাশি, জোরদার আর্থিক তদন্ত

শতবর্ষের পুরোনো মাংস-বাদামের স্যান্ডউইচের রেসিপি ফিরছে আলোচনায়

আজকের ব্যস্ত জীবনে স্যান্ডউইচ অনেকেরই প্রিয় খাবার। দ্রুত তৈরি করা যায়, সহজে বহন করা যায় এবং পেটও ভরে। তবে এই জনপ্রিয় খাবারের ইতিহাস যে শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে এসেছে, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো রান্নার বই থেকে উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমী মাংস-বাদামের স্যান্ডউইচের রেসিপি, যা ইতিহাসপ্রেমী ও রন্ধনশিল্পে আগ্রহীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

ইতিহাসের পাতায় স্যান্ডউইচ

রুটির ভেতরে বিভিন্ন উপকরণ ভরে খাওয়ার ধারণা মানবসভ্যতার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রুটির সঙ্গে নানা ধরনের খাবার মিলিয়ে সহজে বহনযোগ্য খাবার তৈরি করত। মধ্যযুগে ইউরোপের কৃষিশ্রমিকরাও মাঠে কাজের সময় রুটি, পনির কিংবা ঠান্ডা মাংস একসঙ্গে খেতেন, যা আধুনিক স্যান্ডউইচের পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে আঠারো শতকে এই খাবার নতুন পরিচিতি পায়। তখন থেকে স্যান্ডউইচ ধীরে ধীরে ইউরোপের অভিজাত সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

I recreated forgotten vintage sandwiches and here's my verdict |  lovefood.com

রেসিপির বইয়ে প্রথম স্যান্ডউইচ

আঠারো শতকের শেষভাগে প্রথমবারের মতো রান্নার বইয়ে স্যান্ডউইচের উল্লেখ পাওয়া যায়। শুরুতে ঠান্ডা মাংস, মাছ বা অন্যান্য সংরক্ষিত উপাদান দিয়ে এটি তৈরি করা হলেও উনিশ শতকে নানা ধরনের সৃজনশীল পুর যোগ হতে থাকে। মিষ্টি স্বাদের স্যান্ডউইচ থেকে শুরু করে ভেষজ ও ফলের সমন্বয়ে তৈরি নানা রকমের রেসিপিও তখন জনপ্রিয়তা পায়।

ঠিক সেই সময়ের একটি রান্নার বইয়ে পাওয়া যায় মাংস ও বাদামের সমন্বয়ে তৈরি এক ভিন্নধর্মী স্যান্ডউইচের রেসিপি, যা বর্তমানে আবারও আলোচনায় এসেছে।

মাংস-বাদামের স্যান্ডউইচ তৈরির উপায়

এই রেসিপিতে প্রয়োজন প্রায় ১০০ গ্রাম সেদ্ধ হ্যাম অথবা যেকোনো সেদ্ধ মাংস, সমপরিমাণ ভাজা চিনাবাদাম, স্বাদমতো লবণ ও গোলমরিচ, এক টেবিল চামচ টমেটো সস, দুই টেবিল চামচ উস্টারশায়ার সস, প্রায় ৩৫ গ্রাম মাখন এবং দুই থেকে চার টুকরা পাউরুটি।

The Sandwich Chronicles: Unveiling the Fascinating History by Tori Avey

প্রথমে মাংস খুব সূক্ষ্ম করে কুচি করতে হবে। এরপর চিনাবাদাম গুঁড়ো করে মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে তাতে লবণ, গোলমরিচ এবং দুই ধরনের সস যোগ করতে হবে। আলাদা করে মাখন গলিয়ে মিশ্রণে মেশাতে হবে, যাতে এটি সহজে রুটির ওপর মাখানো যায়। শেষে মাখন লাগানো দুই টুকরা পাউরুটির মাঝখানে পুর দিয়ে পরিবেশন করলেই প্রস্তুত হবে ঐতিহাসিক এই স্যান্ডউইচ।

অপচয় কমানোর বুদ্ধিদীপ্ত উপায়

রেসিপিটির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আগের দিনের বাড়তি মাংস ব্যবহার করার একটি কার্যকর উপায়। ফলে খাবারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি স্বাদেও আসে নতুনত্ব। বাদামের মচমচে স্বাদ, মাখনের কোমলতা এবং সসের মিশ্রণে তৈরি এই স্যান্ডউইচ অতীতের রন্ধনঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

শুধু একটি রেসিপি নয়, এটি শতবর্ষ আগের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, উপকরণ ব্যবহারের কৌশল এবং রান্নার সৃজনশীলতারও একটি আকর্ষণীয় দলিল। আধুনিক রান্নাঘরে পুরোনো দিনের এই রেসিপি সহজেই নতুন স্বাদ যোগ করতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রোবটের ‘বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত’ এখনই নয়, আরও কয়েক বছর লাগবে: ইউনিট্রির পূর্বাভাস

শতবর্ষের পুরোনো মাংস-বাদামের স্যান্ডউইচের রেসিপি ফিরছে আলোচনায়

১২:২১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আজকের ব্যস্ত জীবনে স্যান্ডউইচ অনেকেরই প্রিয় খাবার। দ্রুত তৈরি করা যায়, সহজে বহন করা যায় এবং পেটও ভরে। তবে এই জনপ্রিয় খাবারের ইতিহাস যে শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে এসেছে, তা অনেকেরই অজানা। সম্প্রতি এক শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো রান্নার বই থেকে উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমী মাংস-বাদামের স্যান্ডউইচের রেসিপি, যা ইতিহাসপ্রেমী ও রন্ধনশিল্পে আগ্রহীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।

ইতিহাসের পাতায় স্যান্ডউইচ

রুটির ভেতরে বিভিন্ন উপকরণ ভরে খাওয়ার ধারণা মানবসভ্যতার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ রুটির সঙ্গে নানা ধরনের খাবার মিলিয়ে সহজে বহনযোগ্য খাবার তৈরি করত। মধ্যযুগে ইউরোপের কৃষিশ্রমিকরাও মাঠে কাজের সময় রুটি, পনির কিংবা ঠান্ডা মাংস একসঙ্গে খেতেন, যা আধুনিক স্যান্ডউইচের পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে আঠারো শতকে এই খাবার নতুন পরিচিতি পায়। তখন থেকে স্যান্ডউইচ ধীরে ধীরে ইউরোপের অভিজাত সমাজে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

I recreated forgotten vintage sandwiches and here's my verdict |  lovefood.com

রেসিপির বইয়ে প্রথম স্যান্ডউইচ

আঠারো শতকের শেষভাগে প্রথমবারের মতো রান্নার বইয়ে স্যান্ডউইচের উল্লেখ পাওয়া যায়। শুরুতে ঠান্ডা মাংস, মাছ বা অন্যান্য সংরক্ষিত উপাদান দিয়ে এটি তৈরি করা হলেও উনিশ শতকে নানা ধরনের সৃজনশীল পুর যোগ হতে থাকে। মিষ্টি স্বাদের স্যান্ডউইচ থেকে শুরু করে ভেষজ ও ফলের সমন্বয়ে তৈরি নানা রকমের রেসিপিও তখন জনপ্রিয়তা পায়।

ঠিক সেই সময়ের একটি রান্নার বইয়ে পাওয়া যায় মাংস ও বাদামের সমন্বয়ে তৈরি এক ভিন্নধর্মী স্যান্ডউইচের রেসিপি, যা বর্তমানে আবারও আলোচনায় এসেছে।

মাংস-বাদামের স্যান্ডউইচ তৈরির উপায়

এই রেসিপিতে প্রয়োজন প্রায় ১০০ গ্রাম সেদ্ধ হ্যাম অথবা যেকোনো সেদ্ধ মাংস, সমপরিমাণ ভাজা চিনাবাদাম, স্বাদমতো লবণ ও গোলমরিচ, এক টেবিল চামচ টমেটো সস, দুই টেবিল চামচ উস্টারশায়ার সস, প্রায় ৩৫ গ্রাম মাখন এবং দুই থেকে চার টুকরা পাউরুটি।

The Sandwich Chronicles: Unveiling the Fascinating History by Tori Avey

প্রথমে মাংস খুব সূক্ষ্ম করে কুচি করতে হবে। এরপর চিনাবাদাম গুঁড়ো করে মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে তাতে লবণ, গোলমরিচ এবং দুই ধরনের সস যোগ করতে হবে। আলাদা করে মাখন গলিয়ে মিশ্রণে মেশাতে হবে, যাতে এটি সহজে রুটির ওপর মাখানো যায়। শেষে মাখন লাগানো দুই টুকরা পাউরুটির মাঝখানে পুর দিয়ে পরিবেশন করলেই প্রস্তুত হবে ঐতিহাসিক এই স্যান্ডউইচ।

অপচয় কমানোর বুদ্ধিদীপ্ত উপায়

রেসিপিটির আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আগের দিনের বাড়তি মাংস ব্যবহার করার একটি কার্যকর উপায়। ফলে খাবারের অপচয় কমানোর পাশাপাশি স্বাদেও আসে নতুনত্ব। বাদামের মচমচে স্বাদ, মাখনের কোমলতা এবং সসের মিশ্রণে তৈরি এই স্যান্ডউইচ অতীতের রন্ধনঐতিহ্যকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

শুধু একটি রেসিপি নয়, এটি শতবর্ষ আগের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, উপকরণ ব্যবহারের কৌশল এবং রান্নার সৃজনশীলতারও একটি আকর্ষণীয় দলিল। আধুনিক রান্নাঘরে পুরোনো দিনের এই রেসিপি সহজেই নতুন স্বাদ যোগ করতে পারে।