ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প একদিকে মেলোনিকে ‘ভালো মানুষ’ বলে মন্তব্য করলেও, অন্যদিকে ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করার জন্য তাকে প্রকাশ্যে দোষারোপ করেছেন।
এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দুই নেতার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উভয়ের মধ্যে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এবং পারস্পরিক সমালোচনা ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।
সম্পর্কের অবনতির কারণ
ট্রাম্প বলেন, ইরান সংকটে ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার সঙ্গে মেলোনির সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়েছে। তার ভাষায়, মেলোনি এতে একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মেলোনিকে এখনও একজন ভালো মানুষ বলে মনে করেন।

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন উভয় নেতা ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে অবস্থান করছেন।
পুরোনো বিরোধ নতুন করে সামনে
দুই নেতার সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় গত মাসে। তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। মেলোনি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এমন বক্তব্য সত্য নয়।
এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ধর্মীয় নেতার সমালোচনার জেরে ট্রাম্পের অবস্থানেরও বিরোধিতা করেছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। পরে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইতালি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ পুনরায় চালু করার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি।
এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে ইতালি সরকার মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের জন্য সিসিলির একটি ঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতিও দেয়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়, রোম সরকারের কাছ থেকে আগাম অনুমতি চাওয়া হয়নি।
সামাজিক মাধ্যমে নতুন বিতর্ক
সম্প্রতি ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলোনির একটি ছবি প্রকাশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। সেই পোস্ট নতুন করে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করে এবং ন্যাটো সম্মেলনের আগে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

উত্তেজনা না বাড়ানোর পথে ইতালি
ইতালির সরকার অবশ্য প্রকাশ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাম্প নিজের মতো করে কথা বলেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি করতে পছন্দ করেন। তাই তার মন্তব্যের জবাব দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে চায় না ইতালি।
অন্যদিকে, মেলোনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। কারণ এমন পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হয়, সে বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞ।
ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক মতবিরোধ ভবিষ্যতে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















