০৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে? চাপে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: ইরান ইস্যুতে মেলোনিকে ‘ভুল’ বললেন ট্রাম্প সংঘাতের গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নায়িকা, পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় আসছে টিলি নরউড নাটকীয় পাঁচ সেটের লড়াই জিতে ইতিহাস গড়লেন জোকোভিচ, এবার সামনে সিনার পদ হারানোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন মারিন ল্য পেন ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান চট্টগ্রামে ৪২ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে, নতুন বাজারে গতি বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বাংলাদেশসহ নির্বাচিত দেশে সৌদির ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু, ভ্রমণ বুকিংয়ের সঙ্গেই মিলবে ভিসা পুলিশের হাইওয়ে শাখায় নতুন নেতৃত্ব, প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ

ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান

দীর্ঘদিনের পুরোনো আকাশ নজরদারি ব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে উত্তর আটলান্টিক জোট। এ লক্ষ্যে সুইডেনের তৈরি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে জোটটি। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার এবং এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০টি বিমান কেনা হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরোনো সতর্কীকরণ ও আকাশ নজরদারি বিমানের পরিবর্তে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং কার্যকর একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় জোটটি। নতুন এই বিমানগুলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুরোনো ব্যবস্থার বদলে আধুনিক প্রযুক্তি

NATO has announced a $4.5 billion plan to acquire up to 10 GlobalEye  aircraft from Saab

জোটের বর্তমান আকাশ সতর্কীকরণ বহরের বেশির ভাগ বিমান কয়েক দশক আগে ব্যবহারে আসে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ছোট আকারের ব্যবসায়িক জেটভিত্তিক অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান যুক্ত করা হবে, যা ড্রোনের ঝাঁক, দ্রুতগতির আকাশ হুমকি এবং পরিবর্তিত যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

জোটের মহাসচিব জানান, নতুন এই ব্যবস্থা আগামী কয়েক দশক ধরে আকাশ নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য রাখবে।

সুইডিশ প্রযুক্তির প্রতি আস্থা

নির্বাচিত বিমানটি সুইডেনের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৈরি উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, যা ব্যবসায়িক জেটের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এটি আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রেই একযোগে নজরদারি চালাতে সক্ষম।

এই প্রকল্পে ইউরোপ, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবদান থাকলেও পুরো কর্মসূচিকে জোটের যৌথ সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

চুক্তি হলে সরবরাহ শুরু ২০৩০ সালে

NATO picks Swedish Saab early-warning planes over US rival | Reuters

এখন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে সম্ভাব্য এই ক্রয়প্রক্রিয়া। দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হলে ২০৩০ সাল থেকে বিমান সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিটি বিমানের সম্ভাব্য মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত দাম এবং মোট কতটি বিমান কেনা হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে।

ভবিষ্যতে আরও সক্ষম হবে বহর

পরিকল্পনায় থাকা বিমানগুলো শুরুতে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা ছাড়া সরবরাহ করা হতে পারে। তবে পরবর্তী সংস্করণে সেই সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে টহল পরিচালনা ও দূরবর্তী অঞ্চলে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে জোটটি শুধু পুরোনো বিমান বদলাচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক আকাশ নজরদারি সক্ষমতা গড়ে তুলছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে?

ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান

০৩:০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘদিনের পুরোনো আকাশ নজরদারি ব্যবস্থাকে বিদায় জানিয়ে নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে উত্তর আটলান্টিক জোট। এ লক্ষ্যে সুইডেনের তৈরি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে জোটটি। সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার এবং এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০টি বিমান কেনা হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পুরোনো সতর্কীকরণ ও আকাশ নজরদারি বিমানের পরিবর্তে আরও আধুনিক, দ্রুত এবং কার্যকর একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় জোটটি। নতুন এই বিমানগুলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুরোনো ব্যবস্থার বদলে আধুনিক প্রযুক্তি

NATO has announced a $4.5 billion plan to acquire up to 10 GlobalEye  aircraft from Saab

জোটের বর্তমান আকাশ সতর্কীকরণ বহরের বেশির ভাগ বিমান কয়েক দশক আগে ব্যবহারে আসে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় ছোট আকারের ব্যবসায়িক জেটভিত্তিক অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান যুক্ত করা হবে, যা ড্রোনের ঝাঁক, দ্রুতগতির আকাশ হুমকি এবং পরিবর্তিত যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

জোটের মহাসচিব জানান, নতুন এই ব্যবস্থা আগামী কয়েক দশক ধরে আকাশ নজরদারি ও আগাম সতর্কীকরণ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য রাখবে।

সুইডিশ প্রযুক্তির প্রতি আস্থা

নির্বাচিত বিমানটি সুইডেনের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের তৈরি উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা, যা ব্যবসায়িক জেটের ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এটি আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রেই একযোগে নজরদারি চালাতে সক্ষম।

এই প্রকল্পে ইউরোপ, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত অবদান থাকলেও পুরো কর্মসূচিকে জোটের যৌথ সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

চুক্তি হলে সরবরাহ শুরু ২০৩০ সালে

NATO picks Swedish Saab early-warning planes over US rival | Reuters

এখন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে সম্ভাব্য এই ক্রয়প্রক্রিয়া। দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হলে ২০৩০ সাল থেকে বিমান সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিটি বিমানের সম্ভাব্য মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে চূড়ান্ত দাম এবং মোট কতটি বিমান কেনা হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা হবে।

ভবিষ্যতে আরও সক্ষম হবে বহর

পরিকল্পনায় থাকা বিমানগুলো শুরুতে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি নেওয়ার সুবিধা ছাড়া সরবরাহ করা হতে পারে। তবে পরবর্তী সংস্করণে সেই সক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে টহল পরিচালনা ও দূরবর্তী অঞ্চলে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এই সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে জোটটি শুধু পুরোনো বিমান বদলাচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক আকাশ নজরদারি সক্ষমতা গড়ে তুলছে।