০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে, নতুন বাজারে গতি বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামান্য কমেছে। পুরো অর্থবছরে দেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাজার বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইউরোপের বাজারে ধাক্কা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে এই অঞ্চলে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কৌশল এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Bangladesh forced to cut RMG prices to stay afloat in EU market | The  Business Standard

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

ইউরোপে রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান পশ্চিমা বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ বেড়ে ২০ দশমিক ০১ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে ০ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশেরও বেশি অংশের গন্তব্য, যা ইউরোপীয় বাজারের দুর্বলতার প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করেছে।

অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি কমেছে

জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

অক্টোবরে রপ্তানি আয় ২০.৬৫ শতাংশ বেড়েছে

ফলে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্বও ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় বছরের মতো এই বাজারগুলোতে সংকোচন উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিট পোশাকের তুলনায় ভালো করেছে ওভেন

পণ্যের ধরন অনুযায়ী হিসাব করলে দেখা যায়, নিট পোশাক রপ্তানিতে তুলনামূলক বেশি চাপ ছিল। অর্থবছরজুড়ে এই খাতের রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে ওভেন পোশাকের রপ্তানি মাত্র ০ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে। ফলে পুরো অর্থবছরজুড়েই ওভেন খাত নিট পোশাকের তুলনায় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল।

নতুন কৌশলের প্রয়োজন

ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরোপীয় বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হলে শুধু প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের নতুন পণ্য উৎপাদন, বাজার বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে, নতুন বাজারে গতি বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ

০২:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামান্য কমেছে। পুরো অর্থবছরে দেশের পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি কমে যাওয়ায় বাজার বৈচিত্র্য বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ইউরোপের বাজারে ধাক্কা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে এই অঞ্চলে রপ্তানি ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৯ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারিত্ব আগের অর্থবছরের ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় ঘনিয়ে আসায় নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদ্যমান বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর কৌশল এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Bangladesh forced to cut RMG prices to stay afloat in EU market | The  Business Standard

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

ইউরোপে রপ্তানি কমলেও বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান পশ্চিমা বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে মোট রপ্তানিতে দেশটির অংশ বেড়ে ২০ দশমিক ০১ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে ০ দশমিক ৯১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কানাডায় রপ্তানি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা মিলিয়ে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ৩৫ শতাংশেরও বেশি অংশের গন্তব্য, যা ইউরোপীয় বাজারের দুর্বলতার প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সহায়তা করেছে।

অপ্রচলিত বাজারেও রপ্তানি কমেছে

জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক এবং উপসাগরীয় দেশসহ অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। এসব বাজারে রপ্তানি ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ৬ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

অক্টোবরে রপ্তানি আয় ২০.৬৫ শতাংশ বেড়েছে

ফলে মোট রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশীদারিত্বও ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় বছরের মতো এই বাজারগুলোতে সংকোচন উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিট পোশাকের তুলনায় ভালো করেছে ওভেন

পণ্যের ধরন অনুযায়ী হিসাব করলে দেখা যায়, নিট পোশাক রপ্তানিতে তুলনামূলক বেশি চাপ ছিল। অর্থবছরজুড়ে এই খাতের রপ্তানি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে ওভেন পোশাকের রপ্তানি মাত্র ০ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে। ফলে পুরো অর্থবছরজুড়েই ওভেন খাত নিট পোশাকের তুলনায় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল।

নতুন কৌশলের প্রয়োজন

ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউরোপীয় বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হলে শুধু প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের নতুন পণ্য উৎপাদন, বাজার বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাজারের ঝুঁকি মোকাবিলা করা সহজ হবে।