টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে গত ৪২ বছরের মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। অস্বাভাবিক এই ভারী বৃষ্টিতে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল এবং কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতির কারণে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত
গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে নগরীর নিচু এলাকাগুলো দ্রুত পানিতে ডুবে যায়।

ভোরের আগে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতার রূপ নেয়। অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
ডুবে যায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক
নগরীর আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোড, বাদামতলী, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মোহরা, কাটালগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চকবাজার এবং বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
কোথাও কোথাও সড়ক ও ড্রেনের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হয় এবং ছোট যানবাহনের চলাচল অনেক এলাকায় বন্ধ হয়ে যায়।
বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি

টানা বর্ষণে অসংখ্য বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সামনে আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
আগামী কয়েক দিন মৌসুমি বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এতে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় নগরীর বিভিন্ন খাল, নালা ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে।
একই সঙ্গে পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















