কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভার্চুয়াল অভিনেত্রী টিলি নরউডকে নিয়ে এবার নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে এটি নতুন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে নির্মাতারা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হলেও মানুষের সৃজনশীলতা ও দক্ষতাই থাকবে মূল চালিকাশক্তি।
মানুষের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়
নির্মাণাধীন ছবিটির নাম ‘মিসঅ্যালাইন্ড’। গল্পে তুলে ধরা হবে এমন এক সংগ্রামের চিত্র, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষের মূল্যবোধ, নীতি ও লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা দেখানো হবে।
ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি হলেও এর চিত্রনাট্য, কারিগরি কাজ এবং অভিনয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে। নির্মাতাদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি সৃজনশীলতার বিকল্প নয়, বরং দক্ষ নির্মাতাদের কাজকে আরও বিস্তৃত করার একটি নতুন মাধ্যম।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় সুযোগ
২০২৫ সালের শেষ দিকে টিলি নরউডকে ভার্চুয়াল অভিনেত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও এরপর আর কোনো চলচ্চিত্রে তাকে দেখা যায়নি। এবার পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ায় এটি তার জন্য বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্মাতারা মনে করছেন, আগামী দিনের চলচ্চিত্র শিল্পে যারা গল্প বলার অভিজ্ঞতাকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করতে পারবেন, তারাই সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবেন।
মুক্তির সময় এখনও চূড়ান্ত নয়

ছবিটি কবে মুক্তি পাবে কিংবা প্রেক্ষাগৃহে নাকি অনলাইন মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। নির্মাতারা বলছেন, প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত
চলচ্চিত্র জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে বিতর্কও থেমে নেই। অনেক শিল্পী ও অভিনয়শিল্পী মনে করেন, অনুমতি ছাড়া কপিরাইট সুরক্ষিত সৃজনশীল কাজ ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা শিল্পীদের অধিকার ও সৃজনশীলতার যথাযথ সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আসছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলেও, এর ব্যবহার কীভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও নৈতিকভাবে পরিচালিত হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















