০৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে? চাপে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: ইরান ইস্যুতে মেলোনিকে ‘ভুল’ বললেন ট্রাম্প সংঘাতের গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নায়িকা, পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় আসছে টিলি নরউড নাটকীয় পাঁচ সেটের লড়াই জিতে ইতিহাস গড়লেন জোকোভিচ, এবার সামনে সিনার পদ হারানোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন মারিন ল্য পেন ন্যাটোর নজর এখন সুইডিশ প্রযুক্তিতে, ৪৫০ কোটি ডলারে কিনছে ১০টি আধুনিক আকাশ নজরদারি বিমান চট্টগ্রামে ৪২ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, জলাবদ্ধতায় স্থবির জনজীবন ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে, নতুন বাজারে গতি বাড়িয়েও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ বাংলাদেশসহ নির্বাচিত দেশে সৌদির ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু, ভ্রমণ বুকিংয়ের সঙ্গেই মিলবে ভিসা পুলিশের হাইওয়ে শাখায় নতুন নেতৃত্ব, প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ফারুক আহমেদ

পদ হারানোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন মারিন ল্য পেন

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল থাকলেও আদালত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ায় তার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও জানিয়েছেন।

রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ল্য পেন নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট চালু করেন এবং সমর্থকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ফ্রান্সের জনগণ।

আদালতের রায়ের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

ল্য পেন জানান, তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন। এই আপিলের ফলে বর্তমান রায়ের কিছু কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। তিনি আগের মতোই দাবি করেছেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ তিনি করেননি।

Would banning Marine Le Pen from running for president be a gift for  France's far right? - France 24

২০২৫ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ ব্যবহার করে নিজ দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধের অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তার দল বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তরুণ নেতা জর্ডান বারদেলাকে সামনে আনার প্রস্তুতিও শুরু করেছিল।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমায় নির্বাচনের পথ খুলল

আপিল আদালত ল্য পেনের নির্বাচনী অযোগ্যতার সময়সীমা কমিয়ে দিয়েছে। আগের রায়ের তুলনায় কম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় তিনি এখন আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আদালত বলেছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও ভোটারদের স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই কারণেই শাস্তির মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

ল্য পেন দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এখন আর এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেখানে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

জনমত জরিপে এখনো এগিয়ে

Marine Le Pen attacks five-year ban from running for public office as  'political decision' - BBC News

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ল্য পেন এবং তার দল এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যদিও অতীতে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েও তিনি জয় পাননি, তবু এবার তিনি আশা করছেন ভোটাররা আদালতের রায়কে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখবেন না।

তিনি আরও জানান, আগে বলেছিলেন ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় থাকলে তিনি নির্বাচন করবেন না। তবে আপিল গ্রহণ হওয়ায় আপাতত সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র

ল্য পেনের এই ঘোষণার পর ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত একজন নেতার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।

অন্যদিকে ল্য পেনের সমর্থকদের দাবি, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত।

France's Marine Le Pen will not run in 2027 if court imposes ankle  bracelet, she says | Euronews

বর্তমানে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে তার দল সবচেয়ে বড় একক দল হলেও সামগ্রিকভাবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন তিনটি বড় শক্তির মধ্যে বিভক্ত। ফলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।

মারিন ল্য পেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ দলের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আদালত আবারও সেই অভিযোগকে সত্য বলে রায় দিয়েছে। তবে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠেও থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে?

পদ হারানোর নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন মারিন ল্য পেন

০৩:০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন ল্য পেন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হবেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বহাল থাকলেও আদালত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ায় তার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও জানিয়েছেন।

রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ল্য পেন নিজের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট চালু করেন এবং সমর্থকদের পাশে থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ফ্রান্সের জনগণ।

আদালতের রায়ের পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ

ল্য পেন জানান, তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবেন। এই আপিলের ফলে বর্তমান রায়ের কিছু কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। তিনি আগের মতোই দাবি করেছেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধ তিনি করেননি।

Would banning Marine Le Pen from running for president be a gift for  France's far right? - France 24

২০২৫ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অর্থ ব্যবহার করে নিজ দলের কর্মীদের বেতন পরিশোধের অভিযোগে তাকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় তার দল বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তরুণ নেতা জর্ডান বারদেলাকে সামনে আনার প্রস্তুতিও শুরু করেছিল।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমায় নির্বাচনের পথ খুলল

আপিল আদালত ল্য পেনের নির্বাচনী অযোগ্যতার সময়সীমা কমিয়ে দিয়েছে। আগের রায়ের তুলনায় কম মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় তিনি এখন আবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আদালত বলেছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও ভোটারদের স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকারও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই কারণেই শাস্তির মেয়াদ পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

ল্য পেন দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এখন আর এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যেখানে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

জনমত জরিপে এখনো এগিয়ে

Marine Le Pen attacks five-year ban from running for public office as  'political decision' - BBC News

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ল্য পেন এবং তার দল এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যদিও অতীতে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েও তিনি জয় পাননি, তবু এবার তিনি আশা করছেন ভোটাররা আদালতের রায়কে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখবেন না।

তিনি আরও জানান, আগে বলেছিলেন ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় থাকলে তিনি নির্বাচন করবেন না। তবে আপিল গ্রহণ হওয়ায় আপাতত সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র

ল্য পেনের এই ঘোষণার পর ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত একজন নেতার নির্বাচনে অংশ নেওয়া নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।

অন্যদিকে ল্য পেনের সমর্থকদের দাবি, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত।

France's Marine Le Pen will not run in 2027 if court imposes ankle  bracelet, she says | Euronews

বর্তমানে ফ্রান্সের পার্লামেন্টে তার দল সবচেয়ে বড় একক দল হলেও সামগ্রিকভাবে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন তিনটি বড় শক্তির মধ্যে বিভক্ত। ফলে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।

মারিন ল্য পেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সহকারীদের জন্য বরাদ্দ অর্থ দলের অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আদালত আবারও সেই অভিযোগকে সত্য বলে রায় দিয়েছে। তবে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী মাঠেও থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি ফ্রান্সের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।