বাংলাদেশসহ কয়েকটি নির্বাচিত আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করেছে সৌদি আরব। এই নতুন ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হবে। এখন নির্ধারিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে একই প্রক্রিয়ায় ভ্রমণ বুকিংয়ের পাশাপাশি পর্যটক ভিসার আবেদনও সম্পন্ন করা যাবে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত দেশগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সৌদি আরবে ভ্রমণকে আরও সহজ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত করা।
একসঙ্গে ভ্রমণ বুকিং ও ভিসা

নতুন ব্যবস্থায় ভ্রমণকারীদের আর আলাদাভাবে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। যোগ্য সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ায় এসব সেবা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ভ্রমণকারীরা চাইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ এবং পর্যটন অভিজ্ঞতাও একই প্যাকেজে যুক্ত করতে পারবেন।
এর ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে সৌদি আরবে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ আরও সহজ ও সংযুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ
সৌদি সরকার এর আগে পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা, আগমনের পর ভিসা এবং ট্রানজিট স্টপওভার ভিসাসহ বিভিন্ন সুবিধা চালু করেছে। নতুন ‘প্যাকেজ ভিসা’ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যা দেশটির দ্রুত বিকাশমান পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি হবে, পর্যটকদের অবস্থানের সময় বাড়বে এবং তারা আরও সমৃদ্ধ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান থেকেই মিলবে সুবিধা
‘প্যাকেজ ভিসা’ সুবিধা শুধুমাত্র সেইসব অনুমোদিত ট্রাভেল ও ট্যুরিজম সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে পাওয়া যাবে, যারা নির্ধারিত সেবার মান বজায় রাখে এবং সার্বক্ষণিক গ্রাহক সহায়তা প্রদান করে।
সৌদি আরবের পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিশ্বজুড়ে দেশটির পর্যটন গন্তব্যের প্রচার, নতুন পর্যটন পণ্য ও সেবা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যটন সম্প্রসারণে কাজ করছে। বর্তমানে বিশ্বের ৩৮টি দেশে তাদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি ২ কোটি ৯০ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে, যা পর্যটন খাতের ধারাবাহিক সম্প্রসারণেরই প্রতিফলন।
বাংলাদেশসহ নির্বাচিত দেশগুলোতে নতুন এই উদ্যোগ চালুর ফলে সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















