পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম, কার্বন নিঃসরণ কমানো, পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা এবং টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের সক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের ৮৫০টি প্রতিষ্ঠানকে সবুজ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শুরুতে বিশ্বের ৮ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে বিশ্লেষণের আওতায় আনা হয়েছিল।
কীভাবে করা হয়েছে মূল্যায়ন
প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মূল্যায়ন পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা হলেও শুধুমাত্র যেসব প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারির পর সর্বশেষ পরিবেশ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে, তারাই মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ৮ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও নির্ধারিত পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ না করায় অনেক প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। একই সঙ্গে তুলনামূলক মূল্যায়নের সুবিধার্থে ৫০০ জনের কম কর্মী রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানও তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান বাদ পড়েছে
বিতর্কিত অস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র, তামাক উৎপাদন কিংবা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুরুতেই অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের বড় অংশ কয়লা, তেল, গ্যাস কিংবা উচ্চমাত্রার গ্রিনহাউস গ্যাস নির্ভর জ্বালানি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল, তারাও এই মূল্যায়নে স্থান পায়নি।
এছাড়া পরিবেশ ধ্বংস, সবুজ উদ্যোগের নামে বিভ্রান্তিকর প্রচার কিংবা গুরুতর পরিবেশগত অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকাশ্য তথ্য ও সংবাদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
চারটি প্রধান সূচকে মূল্যায়ন
যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশগত কার্যক্রম চারটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, পানির ব্যবহার, বর্জ্য উৎপাদন এবং টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ ও প্রতিশ্রুতি।
প্রতিষ্ঠানের আকারের পার্থক্য বিবেচনায় এনে মোট পরিবেশগত তথ্যকে আয়ের সঙ্গে তুলনা করে সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অন্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় মূল্যায়ন করে নম্বর দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না করলে সেই সূচকে শূন্য নম্বর দেওয়া হয়েছে।

স্বাধীন গবেষণার ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা
সব সূচকের নম্বর একত্র করে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা হয়। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ৮৫০টি প্রতিষ্ঠানকে সবুজ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
মূল্যায়ন পরিচালনাকারীরা জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতি সম্পূর্ণ স্বাধীন গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারেনি এবং অর্থের বিনিময়ে তালিকায় স্থান পাওয়ার সুযোগও ছিল না।
বিনিয়োগের নির্দেশনা নয়
এই তালিকাকে কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক বা আর্থিক মানের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ের মূল্যায়নের ফল এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তন বা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এতে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। তাই বিনিয়োগ বা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু এই তালিকার ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য তথ্য ও স্বাধীন পরামর্শ বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















