বিশ্ববাজারে আবারও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ইরানকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বুধবার লেনদেনে মার্কিন ডলার প্রায় এক সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যত অস্থির হচ্ছে, ততই বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার প্রভাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর নেই। এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এরই মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একাধিক বিমান হামলা চালায়। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতি বাজার আগের তুলনায় কিছুটা সতর্ক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
তেলের দামেও ঊর্ধ্বগতি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একদিনে ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
নিউজিল্যান্ডে সুদহার বৃদ্ধি
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিউজিল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভবিষ্যতেও আর্থিক প্রণোদনা আরও কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।
সুদহার বৃদ্ধির পর দেশটির মুদ্রার মান শক্তিশালী হলেও দিনের শেষভাগে আগের কিছু লাভ কমে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকে নজর
বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের নথি থেকে ভবিষ্যতে সুদহার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য কিছুটা দুর্বল হলেও নীতিনির্ধারকেরা এখনও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারেন। তবে বাজারে সুদহার প্রত্যাশায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।
অন্যান্য মুদ্রাবাজারের চিত্র
বুধবার জাপানি ইয়েনের বিপরীতে মার্কিন ডলার টানা চতুর্থ দিনের মতো শক্তিশালী হয়েছে। একই সময়ে ইউরোর বিনিময় হার প্রায় অপরিবর্তিত ছিল, আর ব্রিটিশ পাউন্ডের মান সামান্য কমেছে। সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে সতর্ক অবস্থানই ছিল সবচেয়ে স্পষ্ট প্রবণতা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















