সিঙ্গাপুরে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও সহজে মানিয়ে নিতে নতুন একটি পরিচিতি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশটির ইতিহাস, সামাজিক রীতি ও কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাস ও সংস্কৃতি জানার বিশেষ আয়োজন
প্রায় ৭০ জন কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রধারী বিদেশি পেশাজীবী এই কার্যক্রমে অংশ নেন। আয়োজনের অংশ হিসেবে তারা এশীয় সভ্যতা জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং সিঙ্গাপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
হংকং থেকে সিঙ্গাপুরে আসা লিও ইয়াং জানান, নতুন দেশে এসে তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও তার কাছে নতুন অভিজ্ঞতা ছিল।

ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা
চেন্নাই থেকে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে আসা মানবসম্পদ পরামর্শক ধিলিপ কুমার রাজু জানান, এই আয়োজনে অংশ নিয়ে তিনি বিভিন্ন দেশের খাবার ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি নিজের দেশের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাবারের কথাও তুলে ধরেন।
ফ্রান্স থেকে আসা আরেক অংশগ্রহণকারী ম্যাক্সিমিলিয়ান আজোরিন বলেন, সিঙ্গাপুরের কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবকে সম্মান জানানোর বিষয়টি তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। নতুন পরিবেশে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে তিনি মূল্যবান অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন।
কর্মক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তির জন্য নতুন পরিকল্পনা
বিদেশি পেশাজীবীদের সমাজের সঙ্গে যুক্ত করতে আরও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নেওয়ার নির্দেশিকা এবং স্থানীয় জীবনধারা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচি।
সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও যুববিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দিনেশ বাসু দাশ বলেন, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া স্বাভাবিকভাবে সবসময় ঘটে না। এজন্য সরকার, ব্যবসায়িক সংগঠন ও নিয়োগদাতাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাড়ছে বিদেশি পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ
সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থান অনুমতিপত্রধারী বিদেশি পেশাজীবীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। নতুন উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মীদের স্থানীয় নিয়মকানুন বুঝতে সহায়তা করা এবং এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করা, যেখানে স্থানীয় ও বিদেশি সবাই একসঙ্গে সফলভাবে কাজ করতে পারেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কৃতিগত পার্থক্য কমিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















