স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ এখনো একটি পাকা সড়কের অপেক্ষায় দিন গুনছেন। চালবালা ইউনিয়নের দুহুলি, বড়াজান, শিয়ালখেওয়াসহ আশপাশের গ্রামের হাজারো মানুষের জন্য দুহুলি বাজার থেকে কামলাবাড়ী ইউনিয়নের সড়ক পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের বেশি অংশ এখনো কাঁচা রয়ে গেছে। বর্ষা এলেই এই সড়ক কাদা ও পানিতে ডুবে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে যায় এবং হাঁটুসমান কাদা জমে। ফলে পথচারী, মোটরসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে যাওয়ায় যাতায়াতে সময় ও খরচ—দুইই বেড়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি

এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী দুহুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দুহুলি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হয়। ছোট শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক অভিভাবক বর্ষার সময় তাদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও দ্বিধায় থাকেন।
কৃষকদের বাড়তি খরচ
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরাও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়ছেন। কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় যানবাহন কাঁচা সড়কে যেতে না চাইলে সময়মতো পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। এতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাদের মতে, এই সড়কের ওপর শুধু একটি নয়, প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত সড়কটি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

যা জানাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সড়কটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সড়ক পরিচিতি নম্বরের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে। সেটি সম্পন্ন হলে সরকারি অনুমোদন ও বরাদ্দ সাপেক্ষে সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেতে এখন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার হাজারো মানুষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















