সিঙ্গাপুরের জাতীয় দিবস উদযাপনের আগাম আনন্দে মেতে উঠেছে হাজারো খুদে শিক্ষার্থী। ১১ জুলাই প্রথম জাতীয় শিক্ষা প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে প্রায় ১৫ হাজার প্রাথমিক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ঝলক দেখেছে।
জাতীয় স্টেডিয়ামে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা
বিকেল ৪টা থেকে লাল-সাদা পোশাক পরা শিক্ষার্থীরা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে শুরু করে। ৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও ঐক্যের বার্তা তুলে ধরে।
দে লা স্যাল স্কুলের ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হাসভিন রাম বলেন, সবাইকে জাতীয় পতাকা নাড়তে দেখে তার মনে হয়েছে, সবাই একই অনুভূতি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে।
হাউগাং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অ্যাম্বার জারাফিনা আবদুল হাকিম কুচকাওয়াজের দলগুলোকে মাঠে প্রবেশ করতে দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল। ভবিষ্যতে দেশের সেবায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানায় সে।
নতুন গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুগ্ধ শিশুরা
জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি নতুন গানগুলোও শিশুদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। গায়িকা ইমান ফান্দির পরিবেশিত একটি গান অনেক শিক্ষার্থীর মন ছুঁয়েছে। গানটি একাকী সময়েও পাশে থাকার অনুভূতি তুলে ধরে বলে জানায় অ্যাম্বার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এর মধ্যে রেইনবো সেন্টার ও সেরিব্রাল পালসি অ্যালায়েন্স সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা ছিল। সেরিব্রাল পালসি অ্যালায়েন্স সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থী ফোবি চেং উড়োজাহাজ প্রদর্শনী দেখার জন্য বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে।
ইতিহাস ও আধুনিকতার অনন্য উপস্থাপন
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পরিবেশনায় সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। ওরাং লাউত ভাষার গান এবং জনপ্রিয় পুরোনো সুরের পরিবেশনা শিশুদের অতীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী জেসমিন সক্কো আকাশ থেকে নেমে এসে বিশেষ পরিবেশনা উপহার দেন। তার সঙ্গে ছিল দুইজন আকাশশিল্পী ও শত শত ড্রোনের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী। পরে আকাশজুড়ে আতশবাজির ঝলকানিতে শেষ হয় এই আনন্দঘন আয়োজন।
জাতীয় অনুভূতিতে ভরপুর মুহূর্ত
জিং নান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শানিয়া র্যাচেল ইয়াং জানায়, জাতীয় সংগীত গাওয়ার মুহূর্তটিই তাকে সত্যিকারের সিঙ্গাপুরীয় হওয়ার অনুভূতি দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, আগামী ১৮ জুলাই আরও একটি জাতীয় শিক্ষা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ জুলাই ও ১ আগস্ট জাতীয় দিবসের মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত উদযাপন হবে দেশের জন্মদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















