সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে দীর্ঘ চাকরি ছেড়ে নতুন পথে হাঁটলেন এক বাবা। নিজের সঞ্চয়ের বড় অংশ বিনিয়োগ করে শুরু করলেন ভাজা খাবারের ব্যবসা। কঠিন শুরুর পর ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছেন তিনি।
তিন সন্তানের বাবা শারিজান মোহাম্মদ সাপরি ২৩ বছরের পুলিশ জীবনের ইতি টেনে খাবারের ব্যবসায় নামেন। সন্তানদের জন্য একটি স্থায়ী ভবিষ্যৎ ও নিজের জীবনের নতুন অধ্যায় তৈরি করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
কঠিন সিদ্ধান্তের পর নতুন যাত্রা
৪২ বছর বয়সী শারিজান দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন পুলিশ বাহিনীতে। স্থায়ী চাকরি ও নিয়মিত আয়ের পথ ছেড়ে ব্যবসা শুরু করা সহজ ছিল না। নিজের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে তিনি ভাজা খাবারের দোকান চালু করেন।
ব্যবসার প্রথম মাস ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জের। অনেক দিন দিনের শেষে বিক্রির পরিমাণ খুব কম থাকত। সেই সময় হতাশা এলেও সন্তানদের কথা ভেবে তিনি এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পান।

সন্তানদের জন্য রান্না থেকেই শুরু ভালোবাসা
বাবা হওয়ার পর থেকেই রান্নার প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। বড় মেয়ের জন্য সাধারণ খাবার তৈরি করতে করতে তিনি ধীরে ধীরে রান্নার দক্ষতা বাড়ান। পরে তিন সন্তানের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না করতেন।
কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সন্তানদের জন্য রান্না করতেন। রান্নার কৌশল উন্নত করতে তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণেও অংশ নেন। একসময় তার মনে হয়, ভবিষ্যতে হয়তো খাবারের ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন।
পরিবারের কঠিন সময় পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, কয়েক বছর আগে শারিজানের পরিবার কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন এবং পরে সন্তানদের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন।
সন্তানদের মানসিক সুস্থতার জন্য তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা নিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার সন্তানরা আগের ভয় ও সংকোচ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করে।
শারিজানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল সন্তানদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। তিনি মনে করেন, একটি পরিবারের ভালোবাসা ও যত্ন শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।
খাবারের দোকানেই নতুন স্বপ্ন
নিজের প্রতিষ্ঠানে তিনি বিশেষ ধরনের ভাজা খাবার তৈরি করেন। এ খাবারের স্বাদে তিনি বিভিন্ন সংস্কৃতির মিশ্রণ রাখার চেষ্টা করেছেন। সন্তানদের মতামত নিয়েই তিনি অনেক খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করেছেন।
শুরুতে সংগ্রাম থাকলেও এখন নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়েছে। ব্যবসা ধীরে ধীরে খরচ সামলানোর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন খাবার যোগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
শারিজান বলেন, তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো সন্তানদের জন্য এমন কিছু রেখে যাওয়া, যা তাদের ভবিষ্যতে সহায়তা করবে। নতুন এই পথচলা শুধু ব্যবসা নয়, বরং সন্তানদের জন্য ভালো জীবনের স্বপ্ন পূরণের একটি প্রচেষ্টা।
সন্তানদের জন্য লড়াই করা এই বাবার গল্প দেখায়, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও সাহস ও পরিশ্রম দিয়ে নতুন শুরু করা সম্ভব।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















